সামসী: চিটফান্ড কেলেঙ্কারির দুঃসহ স্মৃতি কাটিয়ে ওঠার আগেই মালদার চাঁচলে একটি বেসরকারি অর্থলগ্নি সংস্থাকে ঘিরে কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও আমানতকারীদের টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল (Monetary Fraud Allegation)। সাধারণ মানুষের কষ্টের জমানো অর্থ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা এবং সেই টাকা দিয়ে জমি কেনার অভিযোগ উঠেছে সংস্থার পরিচালকদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁচলের বারোগাছিয়ায় অবস্থিত অভিযুক্ত অর্থলগ্নি সংস্থার প্রাক্তন ডেপুটি ম্যানেজার উমর ফারুক সিদ্দিকী চাঁচল মহকুমা শাসক ও চাঁচল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, সংস্থার পরিচালক সাদিকুর রহমান, প্রসেনজিৎ সূত্রধর ও হাসানুজ্জামান সদস্যদের জমাকৃত অর্থের অপব্যবহার করেছেন। এমনকি সেই আত্মসাৎ করা অর্থের একটি অংশ দিয়ে পরিচালক সাদিকুর রহমান নিজের নামে জমি পর্যন্ত কিনেছেন। পাশাপাশি, নিধি সংস্থা পরিচালনার একাধিক নিয়মও বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
সম্প্রতি চাঁচলের কান্ডারণে ঘটে যাওয়া আর্থিক প্রতারণার ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন প্রাক্তন ওই ম্যানেজার।
যদিও সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছেন সংস্থার অভিযুক্ত পরিচালক সাদিকুর রহমান। তাঁর পালটা দাবি, “আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাকে এবং আমাদের সংস্থাকে বাজারে বদনাম করার জন্যই এই ধরনের চক্রান্ত করা হচ্ছে।”
অন্যদিকে, এই প্রসঙ্গে চাঁচলের বিজেপি নেতা দীপঙ্কর রাম বলেন, “দুর্নীতি ও প্রতারণার বিরুদ্ধে আমাদের সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। এই নিধি সংস্থার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অনুরোধ করব, নিরাপদ সঞ্চয়ের জন্য সবসময় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেই অর্থ জমা রাখুন।”
অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে মহকুমা প্রশাসন।

