তন্দ্রা চক্রবর্তী, কোচবিহার: বহির্বিভাগে রোগীদের টিকিট দেওয়ার জন্য রয়েছে পাঁচটি কাউন্টার। কিন্তু অভিযোগ, তার মধ্যে তিনটির বেশি কাউন্টার খোলা থাকে না। ফলে কোচবিহার এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (MJNMCH) চিকিৎসা করাতে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের টিকিট পেতে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কখনও সেই লাইন হাসপাতাল চত্বর ছাড়িয়ে জেনকিন্স স্কুলের গেট পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে।
হাসপাতালে মহিলা, শিশু, বিশেষভাবে সক্ষম, প্রবীণ নাগরিক ও পুরুষদের জন্য আলাদা পাঁচটি টিকিট কাউন্টার রয়েছে। হাসপাতালে থাকা বোর্ডে সেই উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে সব ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ। মহিলা এবং পুরুষদের জন্য আলাদা লাইন থাকলেও শিশু, প্রবীণ ও বিশেষভাবে সক্ষমদের অনেককে সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে বিশেষ সুবিধা পাওয়ার কথা যাঁদের, তাঁদেরও অন্যদের মতো দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
সাতমাইলের বাসিন্দা সুরবালা বর্মন জানান, মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে পালা করে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত দুপুর আড়াইটার পর টিকিট হাতে পান। ভেটাগুড়ির বাসিন্দা প্রার্থনা রায়ের অভিজ্ঞতাও একই। বিরক্তির সুরে বলে উঠলেন, ‘বাচ্চার পেটে ব্যথা, ডাক্তার দেখাব। শিশুদের আলাদা লাইন থাকার নিয়ম থাকলেও সবার সঙ্গে এতক্ষণ ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হল।’ সকালসকাল এলেও টিকিট সংগ্রহ করে চিকিৎসক দেখাতে দেখাতেই অনেক সময় কেটে যাচ্ছে।
ঘুঘুমারির ৬৫ বছরের বাসিন্দা সর্বেশ্বর দাস এদিন এসেছিলেন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দেখাতে। তাঁর অভিযোগ, প্রবীণদের জন্য আলাদা কাউন্টার থাকলেও কাউন্টার বন্ধ থাকায় সেখানে টিকিট দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকেও সাধারণ লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘রোদে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শরীর খারাপ লাগছে।’ একই অভিজ্ঞতা রেজিনা বিবিরও। সন্তানকে চিকিৎসককে দেখাতে এসে তাঁকেও সাধারণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট নিতে হয়েছে। এই ভোগান্তিই যদি পোহাতে হয়, আলাদা কাউন্টার থাকার তাহলে মানে কী, প্রশ্ন তুলছেন রোগী ও তাঁদের পরিজনরা।
এই সমস্যা এক-দু’দিনের নয়, বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে বলে অভিযোগ। কোচবিহার ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য এই হাসপাতালে আসেন। আইনজীবী পার্থসারথি দেব বলেন, ‘অনেক দূর থেকে রোগীরা আসেন। লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেই যদি তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে হাসপাতাল সম্পর্কে ভালো বার্তা যাবে না।’
অভিযোগের বিষয়ে এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ তনয় মহন্ত বলেন, ‘আমি সদ্য এই পদে দায়িত্ব পেয়েছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তবে খুব শিগগিরই আউটডোরের পিছনের দিকে জেনকিন্স স্কুলের দিকে যে গেটটি রয়েছে, সেদিকে তিনটি কাউন্টার খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি, যাতে রোগীদের বেশিক্ষণ লাইনে দাঁড়াতে না হয়।’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে অতিরিক্ত তিনটি কাউন্টার খোলার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা কবে কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

