সায়নদীপ ভট্টাচার্য, তুফানগঞ্জ: গ্রামে ডেঙ্গির (Dengue) সংক্রমণ ছড়াচ্ছে দ্রুত। শিশু সহ আক্রান্ত ২১ জন। তাঁদের প্রত্যেকের বাড়ি তুফানগঞ্জ (Tufanganj)-১ ব্লকের চিলাখানা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোগারকুঠি গ্রামে। আক্রান্তদের মধ্যে ২০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (MJNMCH) এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক গৃহবধূ। একই গ্রামে পরপর এতজনের ডেঙ্গি আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে এলাকায়। অথচ তুফানগঞ্জ শহরেও মশার উপদ্রব কমার লক্ষণ নেই। গ্রামে ডেঙ্গির সংক্রমণ ও শহরে মশার বাড়বাড়ন্ত এই দুই পরিস্থিতি ঘিরেই পুরসভা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘নিয়মিত স্বাস্থ্যকর্মীরা এলাকার ওপর নজর রাখছেন। আমরাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।’
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সোমবার ঘোগারকুঠি গ্রামে যান তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের যুগ্ম বিডিও অরিত্র চৌধুরী এবং নাটাবাড়ি ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবদীপ ঘোষ। এলাকায় ঘুরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ডেঙ্গি মোকাবিলায় কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করেন তাঁরা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পাশাপাশি মশার লার্ভা ধ্বংসে স্প্রে এবং ব্লিচিং পাউডার ছড়ানোর কাজও শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ে তৈরি হয়েছে পৃথক নজরদারি দল।
গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিতা দত্ত দাস বলেন, ‘ডেঙ্গি প্রতিরোধে ইতিমধ্যেই প্রশাসন নানা পদক্ষেপ করেছে। এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন ও মশা নিয়ন্ত্রণে আলাদা দল তৈরি করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত এলাকা পরিদর্শন করছেন।’
আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন ঘোগারকুঠির বাসিন্দা অঞ্জলি শীল। সম্প্রতি জ্বর নিয়ে কোচবিহার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যাওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁর রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তাতেই ডেঙ্গির সংক্রমণ ধরা পড়ে। আপাতত সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। তবে গ্রামের মধ্যেই পরিস্থিতি সীমাবদ্ধ নয়। তুফানগঞ্জ শহরের বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রব ক্রমশ বাড়ছে বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। শহরের বহু নিকাশিনালা দীর্ঘদিন পরিষ্কার না হওয়ায় জল জমে থাকছে। সেখানেই মশার বংশবিস্তার হচ্ছে বলে অভিযোগ। বাসিন্দা দীপক দত্ত বলেন, ‘শুধু রাতেই নয়, এখন দিনেও মশার উপদ্রব বেড়েছে। শহরের বহু নর্দমা দিয়ে জল বের হয় না। ওই সমস্ত নর্দমা মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গির প্রকোপ ঠেকাতে অবিলম্বে নর্দমাগুলি সাফাই করা দরকার। পাশাপাশি নিয়মিত ফগিং, মশা মারার তেল স্প্রে ও ব্লিচিং পাউডার ছড়ানো প্রয়োজন।’ হাসপাতালের চিকিৎসক সায়ন মণ্ডলের কথায়, ‘মশা থেকে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া, জাপানিজ এনসেফ্যালাইটিসের মতো রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে। তাই মশার কামড় থেকে বাঁচতে সকলের মশারি টাঙিয়ে ঘুমোনো জরুরি। বাড়ি ও আশপাশে জল জমতে দেওয়া উচিত নয়।’ অন্যদিকে পুরসভার দাবি, পতঙ্গবাহিত রোগ প্রতিরোধে নিকাশিনালা পরিষ্কার, ফগিং এবং মশা মারার তেল স্প্রে করার কাজ চলছে। তবে শহরবাসীর প্রশ্ন, ডেঙ্গির সংক্রমণ বাড়ার আগেই মশা নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করা হবে তো?

