Alipurduar | বর্ষা মোকাবিলায় প্রস্তুত আলিপুরদুয়ার পুরসভা, কন্ট্রোল রুমে ৫০ জনের বিশেষ টিম

Alipurduar | বর্ষা মোকাবিলায় প্রস্তুত আলিপুরদুয়ার পুরসভা, কন্ট্রোল রুমে ৫০ জনের বিশেষ টিম

শিক্ষা
Spread the love


আলিপুরদুয়ার: প্রতিবছর বর্ষা এলে জলমগ্ন হয়ে পড়ে আলিপুরদুয়ার শহরের একাধিক এলাকা। স্কুল, হাসপাতাল, বাজার, এমনকি ঘরবাড়ি তলিয়ে গিয়ে সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগের। কিন্তু এ বছর ছবিটা বদলাতে চায় আলিপুরদুয়ার পুরসভা। তাই আগে থেকেই গঠিত হচ্ছে ৫০ জন সদস্যকে নিয়ে একটি বিশেষ টিম, যাঁরা কন্ট্রোল রুমে বর্ষাজুড়ে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখবেন।

পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, ‘গত বছর পর্যন্ত ৩৫ জন কর্মী দিয়ে কাজ চালানো হত। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলছে, সংখ্যাটি যথেষ্ট নয়। তাই এ বছর ৫০ জনকে নিয়ে আলাদা কন্ট্রোল রুম তৈরি করা হচ্ছে। সকলকে ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে, কে কোথায়, কী দায়িত্বে থাকবেন তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।’

শুধু কন্ট্রোল রুম তৈরি নয়, শহরের জল অপসারণ ব্যবস্থাও ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভার ১৪টি পাম্পসেট ইতিমধ্যেই সার্ভিসিংয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর মধ্যে ৯টি ইলেক্ট্রিক এবং ৫টি ডিজেলচালিত পাম্পসেট। প্রতিটি ওয়ার্ডের জল নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট তালিকা করে ঠিক করা হয়েছে, কোন পাম্পসেট কোথায় বসানো হবে।

জানা গিয়েছে, ডিজেলচালিত পাঁচটি পাম্পসেটের মধ্যে দুটি বসবে সুভাষপল্লি এলাকায়, একটি করে বসানো হবে ১ নম্বর, ৮ নম্বর ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। অন্যদিকে, ৯টি ইলেক্ট্রিক পাম্পসেটের মধ্যে ৩টি বসানো হবে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে, দুটি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এবং বাকিগুলি ১০, ১২, ১৭ ও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে।

শুধু জল নিকাশি ব্যবস্থা নয়, শহরের ১৩টি স্লুইস গেট নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে পুরসভা ও সেচ দপ্তর। পুরসভা গেটগুলির সামনে নিয়মিত পরিষ্কার রাখার দায়িত্বে থাকলেও, গেট মেরামতের কাজ করছে ইরিগেশন বিভাগ। এই গেটগুলির রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে।

এছাড়াও পুরসভার নিজস্ব ৯টি নৌকা ইতিমধ্যেই পরিষ্কার করে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। জুন মাসের শুরুতেই এই নৌকাগুলি শহরের নীচু এলাকাগুলিতে নামানো হবে। পাশাপাশি, বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাম্পসেট বসানোর জন্য অস্থায়ী ঘর তৈরির কাজও দ্রুতগতিতে চলছে।

এই বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার চেয়ারম্যান প্রসেনজিৎ কর বলেন, ‘পুরসভার ৫০ জন কর্মী নিয়ে আমরা একটি শক্তিশালী কন্ট্রোল রুম গঠন করছি। শহরের পরিস্থিতির ওপর দিনরাত নজর রাখবেন তাঁরা। এছাড়াও পাম্পসেট, স্লুইস গেট, জলযান, সবকিছু আগে থেকে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই, যাতে শহরবাসী বর্ষার সময় সমস্যায় না পড়েন।’

প্রসঙ্গত, গত বছর জুন-জুলাই মাসে টানা বৃষ্টিতে শহরের একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে শহরের ১৫ নম্বর, ১৮ নম্বর, বিদ্যাসাগরপল্লি, বিধানপল্লি, আনন্দনগর বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল। এবছর সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি অনেক বেশি মজবুত ও পরিকল্পিত, জানাচ্ছেন পুর আধিকারিকরা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *