Minority Hostels | রাজগঞ্জে বন্ধ চার সংখ্যালঘু হস্টেল, পড়ুয়াশূন্য কোটি টাকার ভবন

শিক্ষা
Spread the love


রাজগঞ্জ: কোটি কোটি টাকা সরকারি অর্থ খরচ করে তৈরি হয়েছিল সুবিশাল ভবন। লক্ষ্য ছিল, সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুব্যবস্থা করা। কিন্তু উদ্বোধনের বছর পার হতে না হতেই একে একে তালা ঝুলল রাজগঞ্জ (Rajganj) ব্লকের চার-চারটি সংখ্যালঘু হস্টেলে (Minority Hostels)। পড়ুয়ার আকাল, কোথাও আবার মেলেনি প্রয়োজনীয় অনুদান। ফলে সরকারের ৩ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার প্রকল্প এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।  জমিদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পা আলমের কথায়, ‘এই স্কুলগুলিতে হস্টেল নির্মাণের প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না। দূরের থেকে কোনও ছাত্র বা ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে না। সরকারি টাকা এভাবে অপচয় না করে পড়ুয়াদের বৃত্তির টাকা বাড়ানোর দাবি তুলছেন অনেকেই।’

২০২০-’২১ শিক্ষাবর্ষে রাজগঞ্জ ব্লকের সন্ন্যাসীকটা হাইস্কুল, ফুলবাড়ি হাইস্কুল এবং বন্ধুনগর ডিএন হাইস্কুলে তিনটি হস্টেল তৈরি হয়। প্রতিটির নির্মাণ খরচ ছিল ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে হস্টেলগুলি দীর্ঘদিন চালু রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি তৎকালীন বিধায়ক খগেশ্বর রায় আনুষ্ঠানিকভাবে হস্টেলগুলির উদ্বোধন করেন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধ হয়ে যায় পরিষেবা।

সুখানি ভোলাপাড়া হাই মাদ্রাসার একটি ছাত্রী হস্টেলও বর্তমানে বন্ধ। স্থানীয় জমিদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বাপ্পা আলমের কথায়, ‘এই স্কুলগুলিতে হস্টেল নির্মাণের প্রয়োজন ছিল বলে আমার মনে হয় না। দূর থেকে কোনও ছাত্র বা ছাত্রী এখানে পড়াশোনা করে না। এর থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের স্কলারশিপের টাকা বাড়িয়ে দিলেই কাজে লাগত।’

স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, হস্টেল বন্ধ রাখার পেছনে রয়েছে আলাদা কারণ। সন্ন্যাসীকটা হাইস্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক চন্দনকুমার বর্মন বলছেন, ‘কয়েক বছর আগেই আমাদের স্কুলে হস্টেল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু করোনা ও সরকারি নির্দেশিকা না আসায় আগে চালু করা যায়নি। ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চালু হয়। কিন্তু ছাত্র কম থাকায় এক বছরের মাথায় ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে হস্টেল বন্ধ রাখা হয়েছে।’

অন্যচিত্র ফুলবাড়ি হাইস্কুলে। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অভিষেক রায়ের প্রতিক্রিয়া, ‘২০২১ সালের আগেই ১ কোটি ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে হস্টেল নির্মাণ হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তা চালু হয়েছিল। তবে এবছর ১ জুন থেকে হস্টেল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। ছাত্রসংখ্যা ছিল মাত্র ১২ জন। গত ছয় মাস ধরে অনুদান না পাওয়ায় স্কুল থেকে এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় ভেবেই এই সিদ্ধান্ত।’

অন্যদিকে, বন্ধুনগর ডিএন হাইস্কুলে মাত্র ৮ মাস চালু থাকার পর অগাস্ট থেকে বন্ধ হস্টেল। ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক মিলন রায় জানান, প্রধান সমস্যা ছাত্রের অভাব। একই দশা সুখানি ভোলাপাড়া হাই মাদ্রাসায় একটি ছাত্রীদের হস্টেলেরও।

তবে অনুদান বন্ধের অভিযোগ মানতে নারাজ প্রশাসন। ব্লকের মাইনরিটি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার পিনাকী রায় বলেন, ‘টাকাপয়সার সমস্যার কথাটি ঠিক নয়। আসল কথা পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে সংখ্যালঘু হস্টেলগুলি। কীভাবে ছাত্রদের হস্টেলমুখী করা যায় তার পরিকল্পনা চলছে।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *