উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: যন্তর মন্তরের ধর্নামঞ্চ থেকে সোনম ওয়াংচুককে (Sonam Wangchuk) তুলে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত ‘ভুল ছিল না’—রবিবার এক বিশেষ শুনানিতে এমনই জানাল দিল্লি (Delhi) হাইকোর্ট। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে অন্য কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো। সেই আর্জি খারিজ করে দিয়ে আদালত সাফ জানিয়েছে, আপাতত সফদরজং হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন থাকবেন তিনি।
সোনমকে হাসপাতালে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে যে অভিযোগ তাঁর পরিবারের তরফ থেকে তোলা হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে বিচারপতি। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সোনম ওয়াংচুক কোনো কারাবন্দি নন। তিনি দেশের একজন স্বাধীন নাগরিক। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় রেখেই তাঁকে হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আদালত আরও নিশ্চিত করেছে যে, সোনমের স্ত্রী এবং পরিবারের সদস্যরা চাইলে হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে পারবেন।
ছুটির দিনেও বিশেষ এজলাসে বসেছিল হাইকোর্ট। সরকারি আইনজীবী, দিল্লি পুলিশ এবং সফদরজং হাসপাতালের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি এইমস-এর জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের বক্তব্যও শোনেন বিচারপতি। মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী বৃহস্পতিবার। তার আগে আগামী তিন দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সোনমের শারীরিক অবস্থার একটি বিস্তারিত ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আপাতত কোনো অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিচ্ছে না আদালত।
নিট (NEET) পরীক্ষার অনিয়মের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে গত ২০ জুন থেকে সরব হয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। পরবর্তীতে সোনম ওয়াংচুক সেই মঞ্চে যোগ দিয়ে টানা ২০ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অনশনের জেরে সোনমের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে পড়েছিল। ওজন কমে যাওয়ায় এবং শরীরে জলের অভাব দেখা দেওয়ায় শনিবার ভোরে দিল্লি পুলিশ তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ ওঠে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও সোনম অনড়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, শরীরে পুষ্টি ও জলের ভারসাম্য ফেরাতে যে ওষুধ বা স্যালাইন প্রয়োজন, তা নিতে অস্বীকার করছেন তিনি। চিকিৎসার ক্ষেত্রেও তিনি তেমন সহযোগিতা করছেন না। এই পরিস্থিতিতে সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রীর দায়ের করা জরুরি আর্জির প্রেক্ষিতে আদালত আপাতত চিকিৎসকদের ওপরই ভরসা রাখতে চেয়েছে।

