উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের আইনি অস্বস্তি বাড়ল। রাজ্যের আবেদনে সাড়া দিয়ে কংগ্রেস প্রার্থীকে সিঙ্গল বেঞ্চের দেওয়া রক্ষাকবচ খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। শুধু তাই নয়, এই মামলায় বেনজিরভাবে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে। বিস্ময় প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, “কোন আইনের বলে অভিযুক্তকে রক্ষাকবচ দিল সিঙ্গল বেঞ্চ? আমি বিস্মিত।”
১৫ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের জন্য মনোনয়ন জমা দেন মিলন প্রধান। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সমর্থন জানানোর পরেই ২০০৭ সালের একটি পুরোনো মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, কংগ্রেস প্রার্থীকে নতুন কোনও মামলায় গ্রেপ্তার করা যাবে না এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। সিঙ্গল বেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।
এদিনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, অভিযুক্ত কেন প্রথাগতভাবে আগাম জামিন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চ্যালেঞ্জ করে জামিনের আবেদন জানাননি। জবাবে কংগ্রেস প্রার্থীর আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, সামনেই নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন এবং হাতে সময় কম থাকায় জরুরি ভিত্তিতে এই রক্ষাকবচ চাওয়া হয়েছিল।
আইজীবীর এই যুক্তি খারিজ করে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কংগ্রেস প্রার্থী হওয়ার সুবাদে তিনি আইনের ঊর্ধ্বে নন। আইনের চোখে ভিআইপি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও তফাত নেই উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, “আপনি ভগবান নন। আইন মেনে জামিনের আবেদন করুন। আইন যা বলবে, সেই অনুযায়ী চলতে হবে। নির্বাচনের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার কোনও বিরোধ নেই।”

