ভোটবাড়ি: আবাস যোজনা, ‘পাড়ায় সমাধান’ সহ একাধিক প্রকল্পের দুর্নীতি এবং কাটমানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহারের (Cooch Behar) মেখলিগঞ্জ (Mekhliganj) ব্লকের ভোটবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়। সরকারি প্রকল্পের বৈঠক চলাকালীন দুর্নীতির প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠেন স্থানীয়রা। অভিযোগ, অভিযুক্ত প্রধান, উপপ্রধান ও এক পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত পুলিশ এসে প্রধান সহ অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের থানায় নিয়ে যায়।
এদিন ভোটবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত (Bhotbari Gram Panchayat) কার্যালয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। পূর্বনির্ধারিত সেই সভায় প্রধান লিপিকা রায়, উপপ্রধান রেজাউল ইসলাম এবং অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা উপস্থিত হন। সভা শুরু হতেই আবাস যোজনা এবং ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তাঁদের ঘিরে ধরে প্রশ্ন শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কাটমানি ফেরত দেওয়ার দাবিতে স্লোগানে ফেটে পড়ে পুরো চত্বর।
স্থানীয় বাসিন্দা মায়া রায়ের অভিযোগ, তাঁর স্বামীর নামে আবাস যোজনার ঘর বরাদ্দ হলেও পঞ্চায়েতের কর্মী ও সদস্যদের যোগসাজশে ইচ্ছাকৃতভাবে তা অন্য একজনের নামে বদল করে দেওয়া হয়। সরকারি খাতায় নাম থাকলেও বাস্তবে তাঁরা কোনো টাকা পাননি। সেক্রেটারিকে জানিয়েও সুরাহা না মেলায় ক্ষোভ বাড়ে। অপর এক বাসিন্দা উপেন বর্মনের অভিযোগ, ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের ১০ লক্ষ টাকার তহবিল পুরোপুরি লুট করা হয়েছে। এই দুর্নীতির হিসাব চাইতেই প্রধান ও উপপ্রধান কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি, যা দেখে সাধারণ মানুষের রাগ চরমে ওঠে। এরপরই প্রধান ও উপপ্রধানকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে শুরু করেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় মেখলিগঞ্জ থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রধান সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যদের পুলিশের গাড়িতে করে থানায় সরিয়ে নিয়ে যায়। এদিকে পঞ্চায়েত কার্যালয় থেকে জনপ্রতিনিধিরা বেরোতেই সেখানে গোবর জল ছিটিয়ে গোটা অফিস শুদ্ধিকরণ করেন বিজেপি যুব মোর্চার কর্মীরা।
বিজেপি যুব মোর্চার ২ নম্বর মণ্ডল সহ-সভাপতি সৌরভ বসাক বলেন, “দুর্নীতিগ্রস্ত এই তৃণমূলকে ক্ষিপ্ত জনগণ যেমন আজকের ডিম থেরাপি দিয়েছে তেমনি আমাদের পক্ষ থেকে অপবিত্র জায়গাটাকে আজকে গোবর জল ছিটিয়ে পবিত্র করে শুদ্ধিকরণ করলাম।” অন্যদিকে, মেখলিগঞ্জ থানা সূত্রে জানানো হয়েছে যে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।

