Meerut Saurabh Rajput Homicide Case | মীরাটের মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায়, স্ত্রী মুস্কান ও প্রেমিক সাহিলের মৃত্যুদণ্ড

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ দেশজুড়ে সাড়া ফেলে দেওয়া চাঞ্চল্যকর মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুত হত্যা মামলায় (Meerut Saurabh Rajput Homicide Case) ঐতিহাসিক রায় দিল আদালত। পরিকল্পনা করে স্বামী সৌরভকে নৃশংসভাবে খুন এবং তাঁর দেহ টুকরো করে নীল ড্রামে ভরে সিমেন্ট দিয়ে সিল করার অপরাধে স্ত্রী মুস্কান রাস্তোগী এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লা—উভয়কেই মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির সাজা শোনালো মীরাট আদালত। বুধবার মীরাটের জেলা জজ অরবিন্দ কুমার মিশ্র এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায়দান করেন।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৫ সালের ৩ মার্চ উত্তরপ্রদেশের মীরাটের ইন্দ্রনগরের বাড়িতে মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে সৌরভের খাবারে কড়া ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচৈতন্য করা হয়। এরপর বাড়িতে প্রবেশ করেন মুস্কানের প্রেমিক সাহিল শুক্লা। দুজনে মিলে কুপিয়ে খুন করে সৌরভকে।

খুনের পর প্রমাণ লোপাটের জন্য নৃশংসতার সমস্ত সীমা পার করে দেন অভিযুক্তরা। মৃতদেহটি বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোট ১৫ টুকরো করা হয়। এরপর একটি বড় নীল রঙের প্লাস্টিকের ড্রাম এনে তাতে দেহাংশগুলি ভরানো হয় এবং বালি, জল ও সিমেন্ট গুলে ড্রামের মুখ পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়।

হত্যাকাণ্ডের পরই সৌরভের মোবাইল থেকে তাঁর পরিবারকে ভুয়া মেসেজ পাঠিয়ে মুস্কান দাবি করেন যে সৌরভ ব্যবসার কাজে বাইরে গিয়েছেন। এরপর প্রেমিক সাহিলকে নিয়ে হিমাচলপ্রদেশে বেড়াতে চলে যান তাঁরা। কিন্তু ১৭ মার্চ সৌরভের আত্মীয়দের সন্দেহ হওয়ায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে সিমেন্টভর্তি সেই নীল ড্রাম উদ্ধার করে। ড্রাম কেটে সৌরভের দেহাবশেষ উদ্ধার করার দু’দিনের মধ্যেই মুস্কান ও সাহিলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এই মামলায় আদালতে মোট ১২৬টি শুনানি হয়েছে এবং ২২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। স্থানীয় দোকানদারের সাক্ষ্য থেকে শুরু করে কল রেকর্ড, টাওয়ার লোকেশন এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পুলিশের প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে। বিচারক অরবিন্দ কুমার মিশ্র রায়দানকালে মন্তব্য করেন, এই ধরনের পৈশাচিক অপরাধ বৃহত্তর সমাজে চরম ভীতির সৃষ্টি করে। সেই কথা মাথায় রেখেই আদালত দুই অভিযুক্তের জন্য ফাঁসির সাজা ঘোষণা করেছে। বিচার প্রক্রিয়ার মাঝেই জেলে এক সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন মুস্কান। দেড় বছরের মাথাতেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত ও কঠোর আইনি পরিণতি পেল।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *