মাথাভাঙ্গা: রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর ‘থ্রেট কালচার’ (Menace Tradition) চালানোর অভিযোগে তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়লেন মাথাভাঙ্গা (Mathabhanga) মহকুমা হাসপাতালের সুপার মাসুদ হাসান (Masud Hassan)। বৃহস্পতিবার তিনি হাসপাতালে ঢুকতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন কর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে আগেভাগেই পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, কোচবিহারের তৃণমূল সাংসদ জগদীশ বর্মা বসুনিয়ার ঘনিষ্ঠ পরিচয় দিয়ে মাসুদ হাসান হাসপাতালের ভিতরে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করতেন। চিকিৎসকদের দাবি, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ডিউটি রোস্টার নিয়ন্ত্রণ, বদলির হুমকি, অপমানজনক আচরণ এবং আর্থিক তোলাবাজির মতো ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। চিকিৎসক ডাঃ প্রবীর বাগ অভিযোগ করেন, সুপারের প্রত্যক্ষ মদতে এক স্ক্যাভেঞ্জিং সুপারভাইজার চিকিৎসকদের কাছ থেকে ডিউটি সংক্রান্ত নানা অজুহাতে টাকা আদায় করতেন। ৪ মে-র পর থেকেই ওই কর্মী গা ঢাকা দিয়েছেন বলে দাবি।
প্রবীণ চিকিৎসক ডাঃ প্রদীপ্ত চক্রবর্তী জানান, কোনও কারণ ছাড়াই তাঁকে এইচডিইউ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নার্সিং স্টাফদের অভিযোগ, সামান্য বিষয়েও সুপার অপমান করতেন এবং সার্ভিস বুকে ‘লাল কালি’ দেওয়ার হুমকি দিতেন। সুপারের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও হাসপাতালের কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। কর্মীদের দাবি, তিনি মাঝেমধ্যেই সুপারের চেয়ারে বসে নির্দেশ দিতেন। এদিন সেই সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও এই সংক্রান্ত সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুপার মাসুদ হাসান।
