উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: ঘাসফুল প্রতীক ‘ফ্রিজ’ বা স্থগিত করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court docket) দ্বারস্থ হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে দায়ের করা এই মামলায় তিনি যুক্ত করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি হতে পারে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আগামী ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি অন্তর্বর্তী নির্দেশে তৃণমূলের মূল প্রতীক ফ্রিজ করে দেয় কমিশন। এরপর শুক্রবার দুই শিবিরের জন্য আলাদা নাম ও প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়:
- মমতা শিবির: দলের নতুন নাম ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক ‘ফুটবল পায়ে ফুটবলার’।
- ঋতব্রত শিবির: দলের নাম দেওয়া হয়েছে ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক দেওয়া হয়েছে ‘খাম’।
প্রতীক ও নাম হাতছাড়া হওয়ার পরেই রাজ্য রাজনীতিতে একের পর এক বড়সড় নাটকীয় ঘটনা ঘটে। নন্দীগ্রামে (Nandigram) মমতা শিবিরের প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠক করে মমতা স্পষ্ট জানান, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে তারা কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। কিন্তু এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক পুরনো খুনের মামলায় গ্রেপ্তার হন নন্দীগ্রামের হাত শিবিরের প্রার্থী মিলন প্রধান।
সমগ্র পরিস্থিতিকে “গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিবস” বলে উল্লেখ করে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনকে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তিনি উদ্ধব ঠাকরে ও এনসিপির দল ভাঙার উদাহরণ তুলে ধরেন। নাম না করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে তাঁর অভিযোগ—ইভিএম হাইজ্যাক ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট গণনা পরিচালনা করে মধ্যরাতে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।

