উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দলের অন্দরে যখন ভাঙনের সুর এবং আইনি জটিলতার ঘনঘটা, ঠিক তখনই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এ নেমে পড়লেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সোমবার কালীঘাটের বাড়িতে দমদম লোকসভা সাংগঠনিক জেলার পুর-প্রতিনিধিদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন তিনি। এই বৈঠক নিছক আলোচনা নয়, বরং সংগঠনের ভিত মজবুত করতে এক ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বৈঠকের কেন্দ্রে ছিল কাউন্সিলরদের মনোবল এবং সুরক্ষাকবচ। দলীয় কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ তুলে মমতা সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের পুরনো মামলা খুঁড়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে তাদের কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তৃণমূল নেত্রী পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, তাপস চট্টোপাধ্যায় এবং সব্যসাচী দত্তকে নিয়ে গঠিত এই কমিটি কাউন্সিলরদের আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।
তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠে এদিন ছিল আত্মসমীক্ষার সুরও। পদত্যাগীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট জানান, কাউকে জোর করে আটকে রাখার পক্ষপাতী নন তিনি। নেত্রীর কথায়, “আমি কাউকে জোর করে আটকে রাখব না। যাদের ইচ্ছে তারা যেতে পারেন। কিন্তু যারা দলের সঙ্গে থাকবেন, আমি তাদের নিয়েই আবার নতুন করে দল গড়ব।” অনিশ্চয়তা আর চাপের মুখে দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘গোছানোর’ বার্তা কি সত্যিই তৃণমূলের ভাঙন রুখতে পারবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নজরে এখন সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।
