উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: দলের অন্দরে বিধায়কদের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই পালটা লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বিভিন্ন দাবিতে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচি (Protest sit-in) ঘিরে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলেও, পিছু হটতে নারাজ তিনি।
ভোট পরবর্তী হিংসা, হকার উচ্ছেদ সহ একাধিক অভিযোগকে সামনে রেখে মঙ্গলবার ধর্নায় বসার ডাক দিয়েছেন নেত্রী। পুলিশের পক্ষ থেকে রানি রাসমণি রোডে ধরনার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিকল্প হিসেবে ওয়াই চ্যানেলে মাত্র দু’ঘণ্টার জন্য অনুমতি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা সাফ জানিয়েছেন, প্রশাসন যেখানে বাধা দেবে, সেখানেই ধর্নায় বসবেন তিনি। মমতার কথায়, ‘গ্রেপ্তার করার হলে করুন। মারলে মার খাব। বাংলায় গণতান্ত্রিক আন্দোলন করতে না দিলে প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করব।’
রবিবার কালীঘাটে দলের বিধায়কদের বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জনের উপস্থিতি রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনাকে আরও জোরালো করেছে। দলের অন্দরের সেই অস্থিরতা সামাল দিতেই এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন নেত্রী। সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বিজেপি সরকার ও পুলিশকে তীব্র নিশানা করেন। মমতা বলেন, ‘আমাকে ছেড়ে রাখলে বিপদ আছে। কারণ আমি মাথা নত করি না। আমাকে আপনারা মেরে ফেলতে পারেন, আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পারেন।’
সোমবার ব্লক স্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও তার বিশেষ প্রভাব দেখা যায়নি। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুরে কলকাতায় তৃণমূল নেত্রীর এই ধর্না কর্মসূচি কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে দলীয় নেতৃত্বের একাংশের অনীহা এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের জেরে আজকের এই কর্মসূচি তৃণমূলের কাছে অগ্নিপরীক্ষার সমান। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে মমতা ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ধর্না কর্মসূচি পালন করেন, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।
