কিশনগঞ্জ: পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর সোমবার বিকেলে কিশনগঞ্জের (Kishanganj) রমজান নদীর চর থেকে উদ্ধার হয় ১৩ বছরের এক নাবালিকার নিথর দেহ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও অভব্য আচরণের অভিযোগ তুলে সোমবার গভীর রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কিশনগঞ্জ সদর হাসপাতাল চত্বর। অভিযুক্ত এএসআই-এর শাস্তির দাবিতে মৃতদেহ আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ করেন স্থানীয়রা।
নিহত নাবালিকার নাম মেনকা কুমারী। সে কিশনগঞ্জ শহরের ডুমুরিয়া ভাতটা মহল্লার বাসিন্দা ছিল। গত ২৮ মে সে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিনই তারা সদর থানায় জিডি (GD) করেছিলেন, কিন্তু গত পাঁচ দিনে পুলিশ নাবালিকাকে উদ্ধারে ন্যূনতম তৎপরতা দেখায়নি। উল্টে পরিবারের দাবি, এই মামলার তদন্তকারী এএসআই কুমন্তব্য করে তাদের হেনস্থা করেছেন।
সোমবার বিকেলে স্থানীয় মাজিয়া মহল্লার কাছে রমজান নদীর চরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে জনতা সদর হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে বাধা দেন তারা। প্রায় দু’ঘণ্টা চলে রাস্তা অবরোধ। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হলে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মহকুমা পুলিশ আধিকারিক খুসরু সিরাজ।
বিক্ষুব্ধ জনতার দাবি ছিল—যতক্ষণ না এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে এবং অভিযুক্ত এএসআই-কে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে, ততক্ষণ ময়নাতদন্ত করা যাবে না। শেষ পর্যন্ত মহকুমা পুলিশ আধিকারিক-এর আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। মহকুমা পুলিশ আধিকারিক খুসরু সিরাজ জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি বিশেষ তদন্ত শুরু করা হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাসের পর রাত ১২টার দিকে একটি মেডিকেল বোর্ড নাবালিকার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত শুরু করে।এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সঠিক বিচার না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
