গাজোল: এক নজরে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এটি আদৌ কোনো রাস্তা, নাকি চষা খেত (Malda Street Protest)! অথচ এর ওপর দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে। রাস্তার বেহাল দশার প্রতিবাদে এবং প্রশাসনের উদাসীনতার বিরুদ্ধে অবশেষে কর্দমাক্ত রাস্তাতেই ধানের চারা রোপণ করে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় গ্রামবাসীরা। বুধবার চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদার গাজোলের বৈরগাছি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের আলিনগর এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একলাখির অর্জুন মোড় থেকে রাইখা দীঘি হয়ে আলিনগর কয়লাবাদ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার একটি পাকা রাস্তা রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি মেরামত না হওয়ায় তা পুরোপুরি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টির ফলে রাস্তাটির অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠেছে। বাইক তো বটেই, পায়ে হেঁটে চলাও দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিন একটি ছোট মালবাহী চার চাকার গাড়ি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মাঝপথেই আটকে যায়। পরে গ্রামবাসীরা হাত লাগিয়ে কসরত করে গাড়িটি পার করান। রাইখা দীঘি, আলিনগর, কয়লাবাদ, চন্ডীতলাসহ একাধিক গ্রামের মানুষ গত প্রায় এক মাস ধরে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
গ্রাম উন্নয়ন যুব কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এদিনের বিক্ষোভে ছোট ছোট সন্তানদের কোলে নিয়ে প্রচুর মহিলাও অংশ নেন। গ্রাম উন্নয়ন যুব কমিটির সম্পাদক মো. আলফাজ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, গত ১৫ বছর ধরে এই রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে, অথচ এটিই ওই এলাকার যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। গ্রাম পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস থেকে শুরু করে বিধায়ক—সব মহলেই বহুবার জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিধানসভা নির্বাচনের সময় স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ জানালেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমান বিধায়ক চিন্ময় দেব বর্মনকে বিষয়টি জানানো হলেও তিনি একবারও এলাকা পরিদর্শনে আসেননি। এলাকাবাসী পাপলি কৈবর্ত বলেন, যেভাবে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে, তাতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত এই বেহাল রাস্তার সংস্কার না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা।

