Malda Roshkodom GI Tag | স্বাদ আছে, ট্যাগ নেই! রসকদম্বের কপালে জিআই-এর শিকে কি ছিঁড়বে?

Malda Roshkodom GI Tag | স্বাদ আছে, ট্যাগ নেই! রসকদম্বের কপালে জিআই-এর শিকে কি ছিঁড়বে?

আন্তর্জাতিক INTERNATIONAL
Spread the love


মালদার রসকদম্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে শ্রীচৈতন্যদেবের নাম। রসকদম্ব মালদা জেলার নিজস্ব মিষ্টি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বণিক মহলের তরফে বারবার এই মিষ্টির জিআই ট্যাগের দাবি করা হলেও আজও রসকদম্বের কপালে জিআই ট্যাগ জোটেনি। অথচ চন্দননগরের জলভরা সন্দেশ এবং জনাইয়ের মনোহরা মিষ্টি জিআই ট্যাগ পেয়েছে। এই খবরে হতাশ মালদাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন, কবে জিআই ট্যাগ পাবে রসকদম্ব? প্রশ্ন তুললেন কল্লোল মজুমদার।

রসকদম্বের ইতিহাস

বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, গৌড়ের অধিপতি যখন হুসেন শাহ সেই সময় মালদায় (Malda) এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। তখন জ্যৈষ্ঠ মাস। গৌড় সংলগ্ন রামকেলিতে চৈতন্যদেব একটি কদম ফুলের গাছের নীচে তিনদিন কাটিয়েছিলেন। তখন গাছটি কদম ফুলে ভরেছিল। সেই কদম ফুলের অনুকরণে তৈরি মিষ্টি দিয়ে চৈতন্যদেবকে আপ্যায়ন করা হয়। সেই থেকেই এই মিষ্টির নাম রসকদম্ব (Malda Roshkodom GI Tag) হয় বলে জানা যায়।

মিষ্টির বিবরণ

রসকদম্ব আসলে ছোট রসগোল্লার ওপর খাঁটি ক্ষীরের প্রলেপ দেওয়া এক ধরনের মিষ্টি। ক্ষীরের ওপর থাকে মিষ্টি পোস্তের আরেকটি প্রলেপ। কারিগররা জানিয়েছেন, প্রথমে ছানা দিয়ে ছোট ছোট রসগোল্লা তৈরি করে নেওয়া হয়। তারপর সেই রসগোল্লায় ক্ষীরের প্রলেপ দেওয়া হয়। এরপর একটি বাসনে পোস্ত কিংবা চিনির তৈরি ছোট ছোট গোলাকার বস্তুর মধ্যে ফেলে লাগিয়ে দেওয়া হয়। গোলাকার বস্তুগুলি দেখতে অনেকটা হোমিওপ্যাথি ওষুধের মতো। তৈরি হয়ে যাওয়ার পর ওই মিষ্টিকে একদম কদম ফুলের মতো দেখতে লাগে। মালদা ছাড়া এই মিষ্টি সেভাবে আর কোথাও পাওয়া যায় না।

কী বলছেন বিক্রেতারা

মালদার এক মিষ্টি ব্যবসায়ী নয়ন ঘোষের কথায়, ‘রসকদম্ব মালদার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। এখন দুই রকম রসকদম্ব পাওয়া যায়, একটা পোস্ত দিয়ে তৈরি, আরেকটা চিনির তৈরি বিশেষ দানা দিয়ে। দাম ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকা।’ বাজারে চাহিদার কথা মেনে নিলেও মিষ্টি ব্যবসায়ীরা কিন্তু মানছেন, রসকদম্বের সেই স্বাদ আর নেই। কিন্তু কেন? পুরাতন মালদার মিষ্টি বিক্রেতা অখিল হালদারের জবাব, ‘এখন আর আগের মতো ক্ষীর পাওয়া যায় না। পোস্তর দামও আকাশছোঁয়া। তাই এই মিষ্টিতে আগের মতো স্বাদ হয় না।’

তকমার যুক্তি

প্রশ্ন যখন জিআই ট্যাগের, তখন নিজস্বতার কথা তো উঠবেই। মালদা ছাড়া কি আর কোথাও রসকদম্ব মেলে না? উঁহু, এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অনেকটা রসগোল্লার মতো। মেলে সব জায়গাতেই, তবে মিষ্টান্ন কারিগর মিন্টু সাহার দাবি, ‘মালদা ছাড়া অন্য জেলায় এই মিষ্টি তেমনভাবে পাওয়া যায় না। এখন কোথাও কোথাও এই মিষ্টি তৈরি হচ্ছে ঠিকই, তবে সেখানে এই মিষ্টির আসল স্বাদ পাওয়া যায় না। এই মিষ্টি অনেক দিন টেকসই হয়। সেই কারণে এই মিষ্টির চাহিদা বেশি।’

আবেদনকারীদের কথা

মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির জেলা সভাপতি উজ্জ্বল সাহা বলেন, ‘২০২২ সালের ২৫ মে আমরা রসকদম্বের জিআই ট্যাগের জন্য প্রথম আবেদন করি। চার বছর পেরোনোর পরেও এখনও অধরা জিআই ট্যাগ। আমরা জানতে পেরেছি, আগের সরকার এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। রাজ্যে এখন নতুন সরকার। আশা করছি এবার রসকদম্ব জিআই ট্যাগ পাবে।’

গবেষকদের মতামত

কৃষ্ণদাস কবিরাজের লেখা চৈতন্যচরিতামৃতে শ্রীচৈতন্যদেবের বর্তমান মালদা তথা তৎকালীন গৌড়ে আগমনের সময় ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন খাদ্য ও মিষ্টান্নের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ওই বইয়ে বর্তমানে মালদার বিখ্যাত মিষ্টি রসকদম্বের নাম রসকদম্ব হিসেবেই উল্লিখিত রয়েছে কি না, প্রামাণ্য নথির অভাবে ইতিহাসবিদরা সে বিষয়ে নিশ্চিত নন। কিছু স্থানীয় ঐতিহ্য এবং লোকমুখে প্রচলিত আছে যে, গৌড়ে অবস্থানকালে শ্রীচৈতন্যদেবকে ছানা ও ক্ষীরজাত মিষ্টি পরিবেশন করা হয়েছিল এবং সেই সূত্র ধরেই মালদার রসকদম্বের ঐতিহ্যের কথা বলা হয়। মালদা জেলার ইতিহাস গবেষক তথা শিক্ষক অভিজ্ঞান সেনগুপ্তের মতে, ‘চৈতন্যচরিতামৃতে উল্লেখ না থাকলেও, এ কথা স্পষ্ট যে রসকদম্ব মিষ্টিটি প্রায় দেড়শো বছর আগে মালদাতেই প্রথম তৈরি হয়েছিল। তাই অবশ্যই এই মিষ্টির জিআই ট্যাগ পাওয়া উচিত। আমার মনে হয় এ বিষয়ে উদ্যোগের একটু অভাব রয়েছে।’ তিনি জানিয়েছেন, বছর চারেক আগে রাজ্য সরকারের একটি দল এই মিষ্টির উৎপত্তির বিষয়ে জানতে মালদায় এসেছিল। মালদার যেসব বাসিন্দা ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন তাঁদের সঙ্গে কথা বলে ভিডিওগ্রাফি করা হয়। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তারপর উদ্যোগ গতি হারায় বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞান।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *