Congress Shift | ভিত শক্ত হচ্ছে কংগ্রেসের, পালাবদলের পর চোপড়ায় ৪টি পার্টি অফিস উদ্ধার 

Congress Shift | ভিত শক্ত হচ্ছে কংগ্রেসের, পালাবদলের পর চোপড়ায় ৪টি পার্টি অফিস উদ্ধার 

শিক্ষা
Spread the love


ইসলামপুর: শুধু নেতা নন, সাধারণ ভোটারদের অনেকেও ঝুঁকছেন কংগ্রেসের (Congress Shift) দিকে। অনেকেই বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) টিকিটে জেতা ইসলামপুর মহকুমার চার বিধায়ক তৃণমূলের ভোটারদের নজরে বর্তমানে ‘গদ্দার’ ও ‘বিজেপির বি টিম’। এই পরিস্থিতিতে চারটি আসনেই সাধারণ সংখ্যালঘু ভোটাররা ধীরে ধীরে ‘শিফট’ করছেন কংগ্রেসের দিকে। ইতিমধ্যে চোপড়া এবং ইসলামপুর আসনে এই ট্রেন্ড উঠে এসেছে। গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়া আসনও বর্তমান বিধায়কদের জন্য কার্যত ‘সিসমিক জোনে’ পরিণত হয়েছে। চারটি আসনের একাধিক এলাকা চষে গ্রাউন্ড রিয়েলিটি এমনটাই উঠে এসেছে। লক্ষ্মীপুরে কংগ্রেসের পার্টি অফিসের পাশে দাঁড়িয়ে মন্টু দাস বললেন, ‘গ্রাম্য এলাকায় রাজনৈতিক পরিচয় ছাড়া থাকা ভীষণ কঠিন। বড় বড় নেতারা তো সেটিং করে নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টায় ব্যস্ত। ফলে সাধারণ ভোটার হিসেবে আমরাও এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ বুঝে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

রাজ্যে পালাবদলের পর চোপড়ায় কংগ্রেসের সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। ইতিমধ্যে চারটি পার্টি অফিস তারা তৃণমূলের হাত থেকে উদ্ধার করেছে। লক্ষ্মীপুর পার্টি অফিস তো রং করে রীতিমতো ঝাঁ চকচকে হয়েছে। দাসপাড়ার বাসিন্দা মহম্মদ বলছেন, ‘আমরা তো আগে কংগ্রেসই করতাম। তৃণমূল নেতাদের সন্ত্রাসে ওদের ঝান্ডা ধরতে বাধ্য হয়েছিলাম। এখন এলাকায় তৃণমূল মুছে গিয়েছে। ফলে আমরাও ঘর ওয়াপসি করেছি।’

চোপড়ায় বর্তমানে কংগ্রেস নেতা জাকির আবেদিনের গ্রহণযোগ্যতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ ভালো। জাকিরের কথায়, ‘রোজই সাধারণ মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন। কিছুদিন যেতে দিন, এলাকায় তৃণমূলের নামটুকু থাকবে না।’

ইসলামপুরের সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যেও এই প্রবণতা লক্ষ করা গিয়েছে। রামগঞ্জ, গাইসাল, আগডিমটিখন্তি ও গুঞ্জরিয়া এলাকায় সাধারণ ভোটারদের বড় অংশ কংগ্রেসে যোগ দিয়েছে বলে দাবি। আগডিমটিখন্তির আবদুল রাজ্জাক বলছেন, ‘এলাকায় তৃণমূল নেতা সহ বিধায়কের দেখা নেই। ভোটে জিতেই পালটি মেরেছেন। কেউ কেউ পালিয়ে আছেন। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমরা কংগ্রেসকে বেছে নিয়েছি।’

গোয়ালপোখরের বিধায়ক গোলাম রব্বানির কাছে ‘ঋত তৃণমূল’ হয়ে ভোটব্যাংক ধরে রাখা অন্যতম চ্যালেঞ্জ। মহম্মদ শাহিদ বিপ্রীত মোড়ে চায়ে চুমুক দিয়ে বলেন, ‘আমাদের ভোটেই তো রব্বানির এত ক্ষমতা, লালবাতি ও নীলবাতি। গোটা পরিবার মিলে ক্ষমতা ভোগ করেছেন। সম্পত্তির পরিমাণ নিয়েও তো এলাকায় চর্চার শেষ নেই। অথচ আমাদের ধোঁকা দিয়ে বিজেপির বি টিমে গিয়ে যোগ দিলেন। আমরা সাধারণ ভোটার কংগ্রেস ছাড়া এই এলাকার তো ভবিষ্যৎ দেখছি না।’

তবে রব্বানি বলছেন, ‘আমি এতদিন যা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেই নিয়েছি। যদিও আগামীদিনে কোন পথে যাব, তা অবশ্য সময়ই বলবে।’

তবে কংগ্রেস আলি ইমরান রমজকে (ভিক্টর) দল থেকে সাসপেন্ড করায় গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ায় কংগ্রেসকে কে নেতৃত্ব দেবেন, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে কংগ্রেসের উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলছেন, ‘এই জেলা তো কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। ক্ষমতার লোভে আমাদের টিকিটে জেতা নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখন আমাদের সঙ্গে আসছেন। আমরা জেলা কমিটি দ্রুত মিটিংয়ে বসব। বুথ স্তর থেকে দলকে শক্তিশালী করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। চোপড়া থেকে চাকুলিয়া সর্বত্রই সাধারণ মানুষ কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। নেতৃত্বের অভাব নেই। বিজেপির বিরুদ্ধে আমরাই এই জেলায় প্রধান বিরোধী শক্তি।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *