মালদা: হাইকোর্টের নির্দেশে গত বছর ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বীরভূমের সোনালি খাতুনকে বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ঠিক তার ২১৫ দিন পর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বুধবার মালদার (Malda) মহদিপুর আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরলেন সুইটি খাতুন সহ চারজন। তবে রাত পর্যন্ত তাঁদের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি।
সুইটির সঙ্গে তাঁর দুই নাবালক সন্তান কুরবান শেখ ও ইমাম দেওয়ান এবং সোনালি খাতুনের স্বামী দানেশ শেখও দেশে ফিরেছেন। বীরভূম (Birbhum) জেলার পাইকর এলাকার বাসিন্দা সুইটি খাতুন, সোনালি খাতুন ও দানেশ শেখ জীবিকার তাগিদে দিল্লিতে গিয়ে কাগজ কুড়োনোর কাজ করতেন। অভিযোগ, শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই ২০২৫ সালের জুন মাসে দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে গত বছরের ২৫ জুন তাঁদের বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। এরপর ২০ অগাস্ট অনুপ্রবেশের সন্দেহে বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পরে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবং হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। তাঁকে প্রথমে মালদা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়, পরে বীরভূমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তিনি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। তারপরও আটকে ছিলেন সুইটিরা। এদিন দেশে ফিরলেন তাঁরাও। এতদিন ধরে পুত্রসন্তানের মুখ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সোনালির স্বামী দানেশ শেখ। এবার তাঁর সেই আশা পূরণ হওয়ার পথে। প্রশাসনিক হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পরই তাঁদের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
মহদিপুর সীমান্তে দাঁড়িয়ে সুইটি খাতুনের ভাই ইমানুর শেখ বলেন, ‘হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নিয়ম মেনে দিদিকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাব।’ আর এক আত্মীয় মফিজুদ্দিন শেখ অভিযোগ করেন, ‘শুধু বাংলা বলার অপরাধে বীরভূমের ছয়জনকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আমাদের সমস্তরকম আইনি সহযোগিতা করেছেন রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম। তাঁর জন্যই বাড়ির লোকজনকে ফিরে পেলাম।’

