উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: কোরবানি ইদের (Eid Qurbani tips West Bengal) আগে শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের পশু জবাই সংক্রান্ত কড়া নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তৈরি হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। এই নির্দেশিকার জেরে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে ‘অস্থিরতা’ ও ‘অনিশ্চয়তা’ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষিতে এবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta Excessive Courtroom) দায়ের হলো জনস্বার্থ মামলা। মামলাটি দায়ের করেছেন রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান। এই ইস্যুতে একযোগে সরব হয়েছেন কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী থেকে শুরু করে আইএসএফ চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীও।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৫০ সালের প্রাণিসম্পদ আইন কার্যকর করে গত ১৩ মে এক নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। যেখানে বলা হয়েছে, প্রশাসনের লিখিত অনুমোদন ছাড়া গবাদি পশু হত্যা করা যাবে না, এবং ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদি পশু জবাইয়ের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা থাকবে। এমনকি মাংস কাটার জন্যও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের আগাম অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার কিছু ধারায় উৎসবের দিনগুলিতে ছাড় দেওয়ার আবেদন জানিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক। বুধবার হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এই একই বিষয়ে একাধিক জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে) সবকটি মামলার একসঙ্গে শুনানি হবে।
এই মামলা প্রসঙ্গে মূল আবেদনকারী তৃণমূল বিধায়ক আখরুজ্জামান কোরবানির ধর্মীয় আবেগের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “কোরবানি মুসলমান ধর্মের একটি পবিত্র রীতি। বহু মানুষ দীর্ঘ দিন ধরে যত্নে পশু প্রতিপালন করেছেন। কিন্তু হঠাৎ করে ১৩ মে-র এই সরকারি নির্দেশিকার ফলে তাঁরা চরম বিপাকে পড়েছেন।”
এদিন আদালতে বিধায়কের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও। তিনি ১৯৫০ সালের ওই আইনের ১২ নম্বর ধারার বিশেষ ছাড়ের সংস্থানটি উল্লেখ করে বলেন, “বকরি ইদ মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। আমরা আর্জি জানিয়েছি, উৎসবের দিনগুলিতে গরুকে বাদ দিয়ে অন্তত মোষ বা বলদ কোরবানির ক্ষেত্রে যেন এ বারের মতো অনুমতি দেওয়া হয়।” এর পাশাপাশি বিষয়টিতে একটি অর্থনৈতিক দিকও তুলে ধরেন মহুয়া। তিনি দাবি করেন, এই নির্দেশিকার ফলে শুধু মুসলিমরাই নন, বহু হিন্দু ব্যবসায়ী—যাঁরা কোরবানির বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে গরু লালন-পালন করেন, তাঁরাও আচমকা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় এর গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ ২১ মে শুনানির দিন ধার্য করেছে।
