সামসী: দলীয় নির্দেশ পুরোপুরি অমান্য করে মালদার (Malda) রাজনীতিতে জন্ম নিল এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর সমীকরণ। গেরুয়া-সবুজ সমস্ত রাজনৈতিক ভেদাভেদ মুছে ফেলে পীরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে আসীন হলেন বিজেপির (BJP) একমাত্র পঞ্চায়েত সদস্যা আরতি কর্মকার। আর এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পেছনে রয়েছে তৃণমূলের (TMC) একাংশ সহ কংগ্রেস ও বাম শিবিরের সমর্থন। প্রধান নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে, যা ছাপিয়ে গিয়েছে রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক চর্চাকেও।
মালতীপুর বিধানসভার অন্তর্গত রতুয়া (Ratua)-২ ব্লকের পীরগঞ্জ গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন সংখ্যা কুড়িটি। এতদিন এই পঞ্চায়েতটি পুরোপুরি তৃণমূলের দখলেই ছিল। যেখানে তৃণমূলের ১২টি, কংগ্রেসের ৪টি, সিপিআইএমের ৩টি এবং বিজেপির মাত্র ১টি আসন ছিল। ইতিপূর্বে তৃণমূলের প্রধান হিসেবে রেশমা খাতুন দায়িত্ব সামলালেও, সম্প্রতি তৃণমূলেরই একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনে। এরপর অনাস্থার জেরে প্রধান অপসারিত হলে বুধবার নতুন প্রধান নির্বাচনের জন্য বিশেষ বৈঠক ডাকা হয়।
আর সেই ভোটাভুটিতেই বিজেপির একমাত্র সদস্যা আরতি কর্মকারের পক্ষে মোট ১৬ জন সদস্য তাদের সমর্থন জানান। এই সমর্থনকারী তালিকায় তৃণমূলের ৮ জন, কংগ্রেসের ৪ জন এবং সিপিআইএমের ৩ জন বিদ্রোহী সদস্য অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দিয়ে ভিন্ন শিবিরের এই অনৈতিক ও অদ্ভুত আঁতাত মালদার রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব বারবার পঞ্চায়েত ভাঙা-গড়ার এই খেলায় যোগ না দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিলেও, পীরগঞ্জে তার সম্পূর্ণ উলটো চিত্র দেখা গিয়েছে।
ঘটনার পরই বিজেপির উত্তর মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অভিষেক সিংহানিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, দলীয় নির্দেশ অমান্য করে কেউ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিলে তা বিজেপি বরদাস্ত করবে না। বিষয়টি জেলা নেতৃত্বের নজরে আনা হবে। দলের নির্দেশ অমান্য করার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।অন্যদিকে, সমস্ত বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নতুন প্রধান আরতি কর্মকার জানিয়েছেন, দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবাই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য। তবে নির্বাচনের ঠিক পরেই তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের একসঙ্গে আবির খেলায় মেতে ওঠার দৃশ্য পীরগঞ্জের রাজনৈতিক আকাশে বড় কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার।

