হরিশ্চন্দ্রপুর: নির্বাচন কমিশনের পাঠানো শুনানির (Listening to) নোটিস হাতে নিয়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গেই লাইনে দাঁড়ালেন রাজ্যের ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তথা হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভার তিনবারের বিধায়ক তাজমুল হোসেন (Tajmul Hossain)। বৃহস্পতিবার মালদার হরিশ্চন্দ্রপুরে শুনানি কেন্দ্রে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। মন্ত্রীর মতো একজন জনপ্রতিনিধিকে কেন এভাবে শুনানিতে তলব করা হলো, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।
জানা গিয়েছে, গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে তাজমুল হোসেনকে SIR সংক্রান্ত একটি শুনানির নোটিস পাঠানো হয়। সেই নির্দেশ মেনেই আজ তিনি হরিশ্চন্দ্রপুরের বাংরুয়া হিজরি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (২০২ নম্বর বুথ) হাজিরা দেন। মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী। তিনি জানান, ২০০২ সাল থেকে তাঁর নিজের নাম এবং বাবার নাম সমস্ত সরকারি নথিতে একই রয়েছে। এই নথিপত্র যাচাই করেই তিনি পরপর তিনবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন এবং বর্তমানে মন্ত্রিসভার সদস্য। সমস্ত নথি সঠিক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে কেন শুনানিতে ডাকা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মন্ত্রী সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (Election Fee) বিরুদ্ধে ‘চক্রান্তের’ অভিযোগ এনে বলেন, “আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, তাই নোটিস পেয়ে হাজির হয়েছি। আমার ও আমার পরিবারের সব নথি নির্ভুল। কিন্তু একজন মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও যদি এমন হয়, তবে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা তা সহজেই অনুমেয়।”
তিনবারের বিধায়ক তথা বর্তমান মন্ত্রীর নাগরিকত্ব বা পরিচয় সংক্রান্ত বিষয়ে কমিশনের এই শুনানিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিরোধীরা একে রুটিন প্রক্রিয়া বললেও, শাসক শিবিরের দাবি এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি। শেষ পর্যন্ত এই শুনানির ফলাফল কী দাঁড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
