হরষিত সিংহ, মালদা: মাটির তৈরি উনুনে কাঠের আগুনের আঁচ। বিশেষ পাত্রে সেঁকা হতেই তৈরি সুস্বাদু, মুচমুচে রুটি। তবে আটা দিয়ে নয়, কলাই ও চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি রুটি বরাবরই এই শীতে বেশ হিট মালদায়। সঙ্গে সুস্বাদু বেগুনপোড়া কিংবা ধনেপাতার চাটনি। এটি তৈরির প্রক্রিয়াটাও অদ্ভুত। হাতে দলা নিয়ে থাপড়ে থাপড়ে রুটি গোল করা হয়। হাতে তৈরি বলে এই রুটি বেশ মোটা ধরনের। একটি খেলে দিব্যি পেট ভরে যায়। স্বাদও একেবারে অন্যরকম। শীতের মরশুমে গ্রামীণ মালদার বেশকিছু এলাকায় কলাইয়ের রুটি খাওয়ার চল রয়েছে। তবে বাদ নেই শহরও। মালদা আদালতে ঢোকার মুখেই সার বেঁধে বেশ কয়েকটি দোকান রয়েছে দেখা গেল। মাটির উনুনে কাঠের আগুনে মাটির পাত্রে রুটি সেঁকা হচ্ছে। তা খেতে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
শুধুমাত্র মালদা (Malda) জেলা আদালত চত্বরে নয়, শহরের বিভিন্ন মোড়ে, রাস্তার পাশে ফুটপাথে অনেক মহিলা কলাই রুটির দোকান বানিয়ে বসছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভিড়ও লেগে থাকছে দোকানগুলিতে। সুজন পাল নামে শহরের এক বাসিন্দা বললেন, ‘মাঝেমধ্যেই আমি এই কলাইয়ের রুটি খাই। শীতের সময় বেশি ভালো লাগে। রুটির সঙ্গে ধনেপাতার চাটনি ও বেগুনপোড়া হলে জমে ভালো।’ তবে শুধুমাত্র শীতের মরশুমেই নয়, বর্তমানে মালদা শহরে প্রায় সারাবছরই বিক্রি হয় হাতে তৈরি এই রুটি। তবে শীতের দিনেই এই বিশেষ খাবারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ে। শহরের এক বিক্রেতা সোনেকা মণ্ডলও তেমনটাই জানালেন। তাঁর কথায়, ‘শীত পড়তেই রুটির বিক্রি বাড়ে। অনেক মানুষ এসময় রুটি খেতে বেশি পছন্দ করেন। তবে আমরা সারাবছরই বিক্রি করি।’ মাষকলাইয়ের সঙ্গে চাল মিশিয়ে তা গুঁড়ো করে জল দিয়ে দলা তৈরি করা হয়। তবে তা বেলন দিয়ে গোল করা হয় না। মহিলারা হাতে রুটি গোল করেন। সেই স্বাদও অতুলনীয়। আরেক বিক্রেতা সীতা কেশরী বললেন, ‘হাতে তৈরি রুটির স্বাদ বেশি ভালো হয়। তাই আমরা হাতেই তৈরি করি।’
মালদা শহরে একটি রুটি ২০ থেকে ৩০ টাকা দামে বিক্রি হয়। তবে শুধুমাত্র মালদা শহর নয়, জেলার বিভিন্ন ব্লকের বাজারগুলিতেও এখন কলাইয়ের রুটি বিক্রি হচ্ছে। অনিমেষ মজুমদার নামে এক ব্যক্তি বললেন, ‘এই রুটি খেলে কোনও ক্ষতি হয় না। তাই মাঝেমধ্যেই কিনে খাই।’
