হরিশ্চন্দ্রপুর: কারও বিয়ে হয়ে গিয়েছে, কারও বা কোলে সন্তান, কেউবা বিবাহবিচ্ছিন্না। তারাই স্কুল ছাত্রী হিসাবে কন্যাশ্রী (Kanyashree Prakalpa) আবেদন করেছেন। এই অভিযোগ কানে যেতেই ফিল্ড ভেরিফিকেশন করতে গিয়ে হাতেনাতে সবটা ধরে ফেললেন হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর (Harishchandrapur) ব্লকের যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সোনাম ওয়াঙদি লামা। পাশাপাশি জানা গেল, এলাকার কোনও এক ব্যক্তি ব্লক আধিকারিক পরিচয় দিয়ে টাকার বিনিময়ে, বিবাহিত স্কুল ছাত্রীদের ‘কন্যাশ্রী’ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরগরম গোটা এলাকা।
কন্যাশ্রী প্রকল্পের একাধিক আবেদনপত্র হাতে নিয়ে তথ্য যাচাইয়ে জন্য সমীক্ষা করতে মশালদহ অঞ্চলের তালগাছি ও করকরিয়া গ্রামে যান যুগ্ম সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক সোনাম ওয়াঙদি লামা। আবেদনকারী ছাত্রীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্তে উঠে আসে একাধিক ভুয়া কন্যাশ্রীর নাম। এলাকারই কয়েকটি স্কুল এবং মাদ্রাসায় নথিভুক্ত রয়েছে তাদের নাম। দেখা যায়, আবেদনপত্রে উল্লেখিত অনেক ছাত্রীর বিয়ে হয়ে গিয়েছে। কারো আবার সন্তান রয়েছে। কেউ আবার বিবাহবিচ্ছিন্না। সঙ্গে সঙ্গে সব আবেদন পত্র বাতিল করে দেন।
এদিকে আবেদন করার কথা স্বীকার করেছেন ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকেরা। তারা এও জানান, দু’মাস আগে পঞ্চায়েত ও ব্লকের কর্মী পরিচয় দিয়ে দু’জন ব্যক্তি কন্যাশ্রীর আবেদন পত্র নিয়ে ফিল্ড ভেরিফিকেশনে এসেছিলেন। প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পরিবার পিছু ২-৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিয়ে নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার পর থেকে আর সেই ব্যক্তিকে দেখা যায়নি এলাকায়। অন্যদিকে, ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্লকের এক কর্মী জড়িত রয়েছে গোটা ঘটনায়। তিনি ফিল্ড ভেরিফিকেশনে গিয়ে টাকা আদায় করে মিথ্যা রিপোর্ট ব্লকে জমা করেছেন। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
