Malda | ত্রাণে আঁধার ভূতনিতে, বানভাসি দ্বীপে খাবার কাড়াকাড়ি! জেনারেটর তুলে নেওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ

শিক্ষা
Spread the love


অরিন্দম বাগ ও কল্লোল মজুমদার, ভূতনি: বৃহস্পতিবার সারা দেশজুড়ে ‘আশির্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিজেপি। সেই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য মালদার (Malda) প্লাবিত এলাকায় ত্রাণ শিবিরে গিয়ে গিয়ে প্রদীপ দিয়েও এসেছেন বিজেপির নেতারা। কিন্তু বানভাসি ভূতনিবাসীর জীবনে না আছে আলো, না আছে কোনওরকম আশীর্বাদের ছোঁয়া।

আলো নেই একেবারে আক্ষরিক অর্থেই। গঙ্গার (Ganges) জল ঢোকার পর থেকেই বিস্তীর্ণ এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। প্রশাসন জেনারেটরের ব্যবস্থা করেছিল যাতে অন্তত লোকজন নিজের মোবাইলে চার্জটুকু দিতে পারেন। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদাররা অধিকাংশ জায়গা থেকেই সেসব জেনারেটর সরিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তার আগে অবশ্য সাড়ম্বরে ছবি তুলে নিয়েছেন জেনারেটর বসানোর। প্লাবন ও ভাঙনের জোড়া বিপদের মধ্যেই ভূতনিতে (Bhutni) এখন চলছে ত্রাণ লুটের প্রতিযোগিতা। সরকারি নৌকা দেখলেই তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছেন দুর্গতরা। হাতের নাগালে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা নিয়ে যে যেমনভাবে পারছেন নিয়ে নিচ্ছেন। এমন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে অনেকেই পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় ত্রাণ। ত্রাণ সংগ্রহের হুড়োহুড়ির মাঝে কী করবেন, বুঝে উঠতে পারছেন না সরকারি কর্মী-আধিকারিকরা। খুশবুটোলার উমেজান খাতুনের অভিযোগ, ‘আর কতদিন এভাবে চলবে জানি না। নতুন সরকার এসেছে। তাই ভেবেছিলাম এবার হয়তো ত্রাণের অসুবিধা হবে না। কিন্তু এখনও পর্যন্ত একটা পলিথিনও পাইনি।’

বুধবার ত্রাণসামগ্রী পৌঁছাতেই তা সংগ্রহের জন্য কার্যত হাহাকার পড়ে যায়। মালদা মার্চেন্টস চেম্বারের উদ্যোগে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী ভূতনী সেতুর কাছে পৌঁছেছে— এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন এলাকা থেকে টিনের ডোঙায় চেপে সেখানে পৌঁছাতে শুরু করেন বানভাসিরা। মহিলা, পুরুষের পাশাপাশি শিশুদেরও দেখা যায় ত্রাণ সংগ্রহের জন্য বানের জল ঠেলে সেতুর কাছে আসতে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, ত্রাণ নেওয়ার জন্য দুর্গতদের মধ্যে ব্যাপক ভিড় ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। প্রত্যেকেই শুকনো খাবার সংগ্রহের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান মানিকচকের বিধায়ক গৌরচন্দ্র মণ্ডল, ইংরেজবাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়ি সহ প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁদের তৎপরতায় দুর্গত মানুষের হাতে শুকনো খাবার সহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

দিন দুয়েক আগেই ত্রাণের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে ভূতনি ব্রিজ থেকে রওনা গিয়েছিল প্রশাসনিক নৌকো। ভূতনির শেষ সীমানায় পৌঁছানোর কথা ছিল ওই নৌকার। কিন্তু মাঝপথেই নৌকায় ‘হামলা’ চালায় ডিঙিবাহিনী। ত্রাণের নৌকা দেখতে পেয়েই তার পিছু নিয়েছিল ডিঙিনৌকাগুলি। চারদিকের ডিঙিনৌকার ‘ঘেরাও’য়ে বেশিদূর যেতে পারেনি ত্রাণের নৌকা। মাঝপথেই ত্রাণসামগ্রী শেষ। একটু দূরে যাঁদের বসবাস, তাঁরা প্রশাসনিক নৌকার কাছে এলেও ফিরতে হয়েছে খালি হাতে।

গত রবিবার বিকেলে আলাদিয়া এলাকায় ত্রাণের খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পৌঁছেছিল সরকারি নৌকো। বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় নৌকা পৌঁছাতেই দুর্গতদের ভিড় উপচে পড়ে সেখানে। নিমেষের মধ্যেই উধাও ত্রাণসামগ্রী। কার হাতে কত প্যাকেট গেল, কে প্যাকেট নিল— কিছুই বুঝতে পারলেন না প্রশাসনিক লোকজন। ত্রাণ না পাওয়া মানুষজনের বক্তব্য, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় যাঁরা প্রথমে এসেছিলেন, তাঁরা নিজেদের মতো ত্রাণসামগ্রী নিয়েছেন। ফলে অনেক মানুষকে ত্রাণ থেকে বঞ্চিত থাকতে হয়েছে। কেন সকলে ত্রাণ পাবে না, সেই প্রশ্ন উঠছে। এমনই প্রশ্ন তুলে দুলাল চৌধুরী বললেন, ‘বিকেলে নৌকোয় করে ত্রাণ এসেছিল। নৌকো এসে পৌঁছানোর প্রায় মিনিট দশেক পর আমরা তা জানতে পারি। তড়িঘড়ি ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করতে ছুটে গিয়ে দেখি সব শেষ।’
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বাঁধের ওপর এক অস্থায়ী ঘরের সামনে দুই মহিলা তখন প্রশাসনের সমালোচনায় ব্যস্ত। এক মহিলার কথায়, ‘দু’দিন ধরে কোনও খাদ্যসামগ্রী পাইনি। ঘরে সামান্যকিছু গুড়-চিঁড়ে পড়ে রয়েছে। কালকের মধ্যে ত্রাণ না পেলে আমরা খাব কী? এখানে যখনই ত্রাণসামগ্রী এসে পৌঁছচ্ছে, বাহুবলীরা ধাক্কাধাক্কি করে গাদাগাদা ত্রাণ নিয়ে যাচ্ছে।’

জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের মতে, দুর্গতদের বাড়িতে হয়তো পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী মজুত রয়েছে, কিন্তু তারপরেও তাঁদের মনে হয়, পরে যদি খাদ্যসামগ্রী না পাওয়া যায়— সেই আশঙ্কা থেকেই দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ নেওয়ার হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। আর সেই হুড়োহুড়ি থেকেই অনেকেই ত্রাণ পান না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *