কল্লোল মজুমদার ও শেখ পান্না, মালদা ও রতুয়া: ত্রাণ নেই, বিদ্যুৎ নেই, জল নেই, ওষুধ নেই। ভূতনির (Bhutni) বানভাসি গ্রামগুলিতে সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের সামনে একের পর এক অভিযোগ করলেন মহিলারা। ভূতনি সেতুঘাট থেকে নৌকায় দীর্ঘ পথ পেরিয়ে হাজিটোলা ও সামিরুদ্দিনটোলায় পৌঁছাতেই তাঁকে ঘিরে ধরেন স্থানীয় মহিলারা। খবর পেয়ে খুশবুটোলা ও বাগদিপাড়ার মহিলারাও সেখানে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, একমুঠো ত্রাণও এলাকায় পৌঁছায়নি। প্রায় ১৩ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছে। আরিনা খাতুন বলেন, ‘গত ১৩ দিন ধরে এলাকায় কোনও বিদ্যুৎ নেই। ২০ টাকা দিয়ে এক বোতল জল কিনে খেতে হচ্ছে।’
অভিযোগ শুনে দুর্গত মহিলাদের সঙ্গে নিয়ে উত্তর চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে যান মীনাক্ষী (Minakshi Mukherjee)। হাঁটুজল পেরিয়ে দোতলায় গিয়ে কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন তিনি। স্বাস্থ্যকর্মীদের তরফে উত্তর আসে, ‘আমাদের কিছু করার নেই। যেটুকু ওষুধ এসেছে, তাই দিচ্ছি।’ এরপর জলপথে দক্ষিণ চণ্ডীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুলিনটোলার ঝন্টু মোড়েও যান মীনাক্ষী। সেখানেও বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দা গণপতি মণ্ডল বলেন, ‘যেদিন থেকে বান এসেছে, সেদিন থেকে বিদ্যুৎ নেই। মধ্যেখানে একদিন পঞ্চায়েতের তরফে জেনারেটর এসেছিল। তারপর ঠিকাদার ছবি তুলে নিয়ে জেনারেটর খুলে চলে গেলেন।’ মীনাক্ষী বলেন, ‘মোদির জন্মদিনে দেশজুড়ে প্রদীপ জ্বলবে, আর ভূতনি অন্ধকারে থাকবে, তা হয় না। মানুষকে সংঘবদ্ধ হয়ে অধিকার আদায় করে নিতে হবে।’
এদিকে, রতুয়া (Ratua)-১ ব্লকের মহানন্দটোলা ও বিলাইমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা এখনও জলমগ্ন। এদিন সেখানে পরিদর্শনে যান উত্তর মালদার বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু। কাহালা সুজাপুর ঘাট থেকে সেচ দপ্তরের লঞ্চে বিলাইমারির ভাষারামটোলা ও খাসমহল পরিদর্শন করেন খগেন। দুর্গতদের সঙ্গে কথা বলে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন। পরে কাহালা সুজাপুর হাইস্কুলের ত্রাণশিবিরে গিয়ে আশ্রিতদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ভাত, ডাল ও সবজি পরিবেশন করেন। এদিন সেখানে যান রাজ্যের সেচ প্রতিমন্ত্রী জয়েল মুর্মুও। তিনিও নিজের হাতে রান্না করা খাবার পরিবেশন করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে শিবিরে আশ্রিতদের হাতে প্রদীপও তুলে দেওয়া হয়। এদিন জয়েল বলেন, ‘নদীভাঙন প্রতিরোধে ইতিমধ্যে ৩৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। শুকনো মরশুমে কাজ শুরু হবে। ঝাড়খণ্ড, বিহার ও পশ্চিমবঙ্গ সরকারের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে কাজ এগোবে।’

