মালদা: কয়েক কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসার পর এক সপ্তাহ কাটতে চলল। অথচ এখনও অধরা কাজিগ্রামের সেই সিএসপি-র মালিক সত্যজিৎ দাস। এদিকে, দিনকে দিন বাড়ছে প্রতারিতদের অভিযোগের সংখ্যা। আর সেইসঙ্গে প্রতারণার টাকার অঙ্কটাও ক্রমশ বাড়ছে। যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের হিসেবে প্রথমে টাকার অঙ্কটা ছিল লাখ দশেক, এখন সেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষই বলছে, টাকার অঙ্কটা কোটি টাকার কাছাকাছি। আর প্রতারিতরা তো প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসছেন, প্রায় ৪ কোটি টাকা নয়ছয় করেছেন সত্যজিৎ। ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে অভিযোগ জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন উপভোক্তা কার্তিক বসাক। তিনি বললেন, ‘আমরা চাটাইয়ের ঘরে থাকি। ইচ্ছে ছিল একদিন আমাদেরও পাকা ঘর হবে। সেই আশা নিয়েই টাকা জমাচ্ছিলাম। আমার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন কী করব কিছুই বুঝতে পারছি না।’
গত বুধবার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের সেই কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের মালিকের বিরুদ্ধে কয়েক কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ উঠেছিল। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ওই কাস্টমার সার্ভিস পয়েন্টের মালিকের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ম্যানেজার প্রবীণ কুমার বলেন, ‘আমাদের কাছে এখনও পর্যন্ত ৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগ অনুযায়ী প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকার জালিয়াতি হয়েছে। এখনও আমাদের কাছে আরও অভিযোগ আসছে। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে ইংরেজবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।’
মালদার (Malda) ইংরেজবাজার থানার কাজিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নিত্যানন্দপুরে সেই সিএসপি এখনও তালাবন্ধ। আর সত্যজিৎ এখনও পলাতক। অভিযোগ, সত্যজিৎ উপভোক্তাদের কখনও লিংক না থাকার অজুহাতে একাধিকবার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে, কখনও ভুয়ো সফটওয়্যার ব্যবহার করে, কয়েক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ব্যাপারে প্রায় প্রতিদিন সেই ব্যাংকে অভিযোগ জানাতে আসছেন লোকজন।
সোমবার ওই ব্যাংকের মেইন ব্রাঞ্চে অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন পেশায় শ্রমিক নিখিল দাস। তিনি বলছিলেন, ‘ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়েছে। ওরা আলাদা থাকে। আমরা স্বামী-স্ত্রী শেষ বয়সে সংসার চালানোর জন্য টাকা জমাচ্ছিলাম। আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় ১ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা ছিল। কয়েক দিন আগে টাকা চুরি যাওয়ার খবর পেয়ে আমিও ব্যাংকে পাসবুক আপডেট করতে গিয়েছিলাম। দেখি, পাসবুকের সঙ্গে আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট স্টেটমেন্টের কোনও মিল নেই। ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী দফায় দফায় আমার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিল তিল করে জমানো টাকা যদি না ফিরে পাই, শেষ বয়সে আমাদের কী হবে তা জানা নেই।’ ওষুধের টাকা কোথায় পাব, খাবার কী খাব তা ভেবেই অস্থির হয়ে পড়ছেন তিনি। এদিন অভিযোগ জানিয়েছেন ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে।

