গঙ্গারামপুর: দীর্ঘ রাজনৈতিক ডামাডোল ও নাটকীয়তার শেষে গঙ্গারামপুর পুরসভা (Gangarampur Municipality) সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পুর প্রশাসক বসানো হল। সোমবার বিকেলে পুর প্রশাসক হিসেবে গঙ্গারামপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরে কর্তব্যরত ডিএমডিসি মোস্তাক আহমেদের নাম ঘোষণা করা হয়। খুব দ্রুত প্রশাসকের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট আধিকারিক গ্রহণ করবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এদিকে এই খবরে উচ্ছ্বসিত পদ্ম শিবির। এ বিষয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা বিজেপির জেলা সহ সভাপতি অশোক বর্ধন বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার পরিবর্তন হতেই পুর চেয়ারম্যান সহ সিংহভাগ কাউন্সিলার ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছিলেন। তারপর থেকে বেশ কিছুদিন তাঁরা পুরসভায় আসছিলেন না। ফলে পুর পরিষেবা দিতে সমস্যা হচ্ছিল। এমতাবস্থায় পুর প্রশাসকের নাম ঘোষণায় আমরা খুশি।’
এ বিষয়ে তৃণমূলের (TMC) প্রাক্তন জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার জানান, সম্প্রতি রাজ্যে পরিবর্তনের পর তৃণমূলের যে সমস্ত প্রতিনিধি ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁরা কেউ ভালো পরিষেবা দিতে পারছিলেন না। নির্বাচনের অনেক আগে তৃণমূলের তরফে তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা কথা শোনেননি। এখন নতুন পুর প্রশাসক দায়িত্ব পেয়েছেন। পুরসভার পরিষেবা আরও ভালো হোক, এমনটাই তাঁরা চান। অন্যদিকে, বিদায়ি পুর চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
১৯৯২ সালে বামেদের হাত ধরে গঙ্গারামপুর পুরসভা স্থাপিত হয়। স্থাপনের পর থেকে বামেদের দখলেই ছিল এই পুরসভা। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১৪ সালে এখানে প্রথম পুর প্রশাসক বসেন। এরপর ২০১৫ সালে পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে সেই পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষের আগে, ২০১৯ সালে তৎকালীন পুর চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র বিজেপিতে যোগ দেন। সেই সময় তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূল অনাস্থা আনে এবং তাঁকে অপসারিত করা হয়। এরপর পুর বোর্ড পুনরায় দখল করে তৃণমূল। পরবর্তীকালে সেই পুর বোর্ডের মেয়াদ শেষ হলে পাঁচজন প্রাক্তন কাউন্সিলারকে নিয়ে বোর্ড অফ কাউন্সিলার্স গঠন করা হয়। পরবর্তীকালে ২০২২ সালের পুর নির্বাচনের আগে পুনরায় প্রশাসক পুরসভার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরপর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর তৃণমূল পুনরায় পুরসভা দখল করে।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর পুর চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র সহ মোট ১৪ জন কাউন্সিলার ইস্তফাপত্র জমা দেন। এরপর এক-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকার ফলে নতুন করে বোর্ড অফ কাউন্সিলার্সের বৈঠক ডাকা অসম্ভব হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় পুর আইন অনুযায়ী গঙ্গারামপুর পুরসভাকে পরিচালনা করতে পুর প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। সেইমতো এদিন পুর প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হয়।
পুর নাগরিক অভিজিৎ সরকারের কথায়, ‘গত ১৫ দিন ধরে গঙ্গারামপুর পুরসভায় এক অদ্ভুত অচলাবস্থা তৈরি হয়ে গিয়েছে। কাউন্সিলার, চেয়ারম্যান কারও দেখা নেই। ছোটখাটো পরিষেবার জন্য হয়রান হতে হচ্ছে, ঘুরতে হচ্ছে। এই অবস্থায়, আজ পুর প্রশাসক বসার কথা জানতে পেরে ভালো লাগল।’

