শিবশংকর সূত্রধর, কোচবিহার: ওঁদের জন্য ‘ঠিকানা’ থাকলেও ওঁরা আশ্রয়হীন। শীতের রাতে খোলা আকাশের নীচেই ওঁদের রাত কাটছে। মদনমোহনবাড়ির সামনে গেলেই সেখানে অন্তত জনাদশেক ভবঘুরে ও ভিক্ষাজীবীকে দেখা যায়। দিনেরবেলা তো বটেই তাঁদের অনেকেরই ফুটপাথে শুয়েই রাত কাটে। অথচ ওঁদের জন্য তৈরি করা কোচবিহার পুরসভার ‘ঠিকানা’ আবাসনটির অর্ধেকেরও বেশি জায়গা ফাঁকাই পড়ে রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা সম্পর্কিত নানা সুযোগ রয়েছে। অথচ পুরসভার তরফে কেন সেখানে ভবঘুরে ও ভিক্ষাজীবীদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘মদনমোহনবাড়ির সামনে যে ভিক্ষাজীবীরা থাকেন তাঁদের আমরা একাধিকবার ঠিকানা আবাসনে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওঁরা এখানে থাকতে চান না। একবার পুলিশও ওঁদের ফুটপাথ থেকে তুলে এনে ঠিকানাতে রেখেছিল। কিন্তু ওঁরা আবার মদনমোহনবাড়ির সামনে চলে গিয়েছেন।’
কোচবিহার শহরের (Cooch Behar) বিবেকানন্দ স্ট্রিট এলাকায় পুরসভার ‘ঠিকানা’ আবাসনটি রয়েছে। সেখানে অন্তত ৫০ জন ভবঘুরে ও ভিক্ষাজীবীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। পুরসভা সূত্রে খবর, সেখানে বর্তমানে ২৫ জন থাকেন। আবাসিকদের থাকা, খাওয়া, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা পুরসভার তরফেই করা হয়। তবে ‘ঠিকানা’ আবাসনে থাকতে ভবঘুরে ও ভিক্ষাজীবীদের অনীহা কেন? তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বোঝা গেল, এর পিছনে প্রধান কারণ জীবিকা। মদনমোহনবাড়ি কোচবিহারের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন ও ধর্মীয় কেন্দ্র। সারাদিন এখানে ভক্ত ও পর্যটকদের ভিড় থাকে, যা ভিক্ষাজীবীদের উপার্জনের প্রধান উৎস। আবাসনে গিয়ে থাকলে তাঁরা এই উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার ভয় পান। এছাড়া দীর্ঘদিনের ভবঘুরে জীবন থেকে বেরিয়ে আবাসনের নির্দিষ্ট নিয়মের বেড়াজালে আটকে না পড়ার মানসিকতাই তাঁদের আবাসন থেকে ফের ফুটপাথে টেনে নিয়ে এসেছে।
কোচবিহারের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক রাকেশ সাহার বক্তব্য, ‘ছোট থেকেই দেখে আসছি মদনমোহনবাড়ির সামনে ভিক্ষাজীবীদের বসবাস। তবে শীতের রাতে তাঁরা যেভাবে সেখানে কষ্ট করে থাকেন তা দেখে খুবই দুঃখ হয়। পুরসভা ওঁদের জন্য আবাসন তৈরি করেছে ঠিকই তবে ওঁদের বুঝিয়ে যদি সেখানে নিয়ে রাখা হয় তাহলে সেই উদ্দেশ্য সফল হবে।’
