Mainaguri Accident | এনবিএসটিসি-র ব্ল্যাক বক্স রহস্য: ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনার তদন্তে কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে নিগম?

Mainaguri Accident | এনবিএসটিসি-র ব্ল্যাক বক্স রহস্য: ময়নাগুড়ি বাস দুর্ঘটনার তদন্তে কেন বারবার হোঁচট খাচ্ছে নিগম?

ব্লগ/BLOG
Spread the love


শিলিগুড়ি: আপাতত বিশবাঁও জলে ময়নাগুড়ির (Mainaguri Accident) উল্লারডাবড়িতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ নিগমের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার তদন্ত।

এর আগে বহু চেষ্টা সত্ত্বেও বাসের ব্ল্যাক বক্স চালু করা যায়নি। প্রস্তুতকারক সংস্থার নির্দেশিকা মেনে বক্সের ভেতর থেকে চিপ খুলে কম্পিউটারের সাহায্যে তথ্য পেতে চেয়েছিলেন কর্তারা। তাও সম্ভব হল না। শুক্রবার নতুন করে জটিলতা দেখা দেওয়ায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট তৈরি পিছিয়ে গেল প্রায় এক সপ্তাহ।

নিগম সূত্রে খবর, ব্ল্যাক বক্সের ভেতর থেকে চিপ বের করে কম্পিউটারে ঢোকানো হয়েছিল এদিন। তবে, ভিডিও বা অডিও পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সফটওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই সম্ভব হচ্ছে না। তাহলে বিকল্প হিসেবে অন্য কোন সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে? উত্তর নেই নিগমের আইটি সেলের কাছে। পুরো ঘটনায় সেল কর্মীদের ব্ল্যাক বক্সের প্রযুক্তিগত ধারণা অস্পষ্ট থাকার বিষয়টি সামনে আসছে।

তিন বছর আগে প্রস্তুতকারী সংস্থার লোকজন এসে এই সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। মাঝে আর নতুন করে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেয়নি এনবিএসটিসি। কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। নিগমের এক কর্তার বক্তব্য, ‘আট বছর আগে একটি দুর্ঘটনার তদন্তে নেমে ব্ল্যাক বক্স খুলতেই দেখা গিয়েছিল ক্যামেরা, মনিটর সবকিছু থাকলেও রেকর্ডার বিকল। অর্থাৎ, কিছুই রেকর্ড হয়নি। এবারে অবশ্য তেমন হয়নি। এক জিবি ক্ষমতাসম্পন্ন চিপে মাত্র আট এমবি ফঁাকা রয়েছে। তাই আপাতত মনে হচ্ছে, চিপ থেকে বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলবে। তবে, সম্ভবত সফটওয়্যার সংক্রান্ত সমস্যার জেরে এদিন কিছু পাওয়া যায়নি। আমরা ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।’ সেই সংস্থার কর্মীদের এক সপ্তাহ পর আসার কথা।

ময়নাগুড়িতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার পর থেকেই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের অপেক্ষায় জেলা প্রশাসন। অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে। নিগমের অন্দরেও এখন শুধু ‘ব্ল্যাক বক্স’-কে ঘিরে আলোচনা। সেই প্রসঙ্গ ধরে অভিযোগ উঠছে, বছর তিনেক আগে দেওয়া প্রশিক্ষণ যেন অর্থহীন হয়ে পড়ল। আইটি সেলের অনেকেই নাকি যোগ দেননি শিবিরে। এমনকি সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মীদের বদলে প্রতিটি ডিভিশন থেকে অন্য বিভাগের কর্মীদের পাঠানো হয়েছিল দায়সারাভাবে। এই নিয়ে সেসময় নিগমের অন্দরে কম জলঘোলা হয়নি। ময়নাগুড়িতে বাস দুর্ঘটনার পর তার খেসারত আইটি সেলের কর্মীদের দিতে হচ্ছে, মত এনবিএসটিসি কর্তাদের একাংশের।

অন্য বাসে ব্ল্যাক বক্স লাগিয়ে পাওয়ার অন করে চালানোর চেষ্টা থেকে বক্স খুলে চিপের ব্যবহার, প্রতিটি ক্ষেত্রেই হোঁচট খেতে হচ্ছে। কবে ব্ল্যাক বক্সের চিপ থেকে ভিডিও-অডিও থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, আদৌ সম্ভব হবে কি না, কবেই বা পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জেলা প্রশাসনের কাছে জমা পড়বে- তার উত্তর এইমুহূর্তে কারও কাছে নেই।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *