সুস্মিতা গঙ্গোপাধ্যায়, ফিলাডেলফিয়া: প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের বিবর্ণ শুরু, স্পেনের হতাশা কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর ম্লান উপস্থিতি-বিশ্বকাপের শুরুর দিকের এই বিষাদগুলিকে একাই যেন ঢেকে দিয়েছেন লিওনেল মেসি (Lionel Messi Data)। ফ্রান্সের জার্সিতে কিলিয়ান এমবাপে প্রত্যাশা পূরণ করলেও, এই মুহূর্তে গোটা আমেরিকার ফুটবল-আকাশ আবর্তিত হচ্ছে শুধুই একজন জাদুকরকে ঘিরে।
আলজিরিয়ার বিপক্ষে মেসির সেই জাদুকরি হ্যাটট্রিকের রেশ এখনও কাটেনি। প্রাক্তন তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ সমর্থক বা পরিসংখ্যানবিদ-সবাই ভাসছেন মেসি-আবেগে। আর সেই আবেগের স্রোতেই রোজ ক্রমশ প্রকাশের মতো সামনে আসছে একের পর এক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। তিন গোল করে এমনিতেই মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। এবার ভাঙলেন তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রোনাল্ডোর একটি বিশেষ রেকর্ডও। রাশিয়া বিশ্বকাপে ৩৩ বছর বয়সে হ্যাটট্রিক করে বয়স্কতম হ্যাটট্রিককারীর যে নজির রোনাল্ডো গড়েছিলেন, আটত্রিশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তা অবলীলায় নিজের নামে লিখিয়ে নিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
রেকর্ডের খাতা এখানেই থামছে না। আলজিরিয়ার জালে বল জড়িয়ে বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে মোট ১১টি ভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়লেন মেসি। এর আগে রোনাল্ডো নাজারিও, জুরগেন ক্লিন্সম্যান ও ক্লোসের সঙ্গে যুগ্মভাবে ১০টি দলের বিপক্ষে গোল করার রেকর্ড তাঁর ঝুলিতে ছিল। আলজিরিয়া ছাড়াও বিশ্বকাপে সার্বিয়া, মেক্সিকো, নাইজিরিয়া, বসনিয়া, ইরান, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স ও সৌদি আরবের মতো দেশের রক্ষণ চুরমার করেছেন তিনি। পাশাপাশি বক্সের বাইরে থেকে করা গোলের সংখ্যাতেও (৫টি গোল) ছুঁয়ে ফেলেছেন ব্রাজিলীয় কিংবদন্তি রবার্তো রিভেলিনোকে।
তবে সবচেয়ে বড় রূপকথা সম্ভবত লুকিয়ে আছে ক্যালেন্ডারের পাতায়। ২০০৬ সালের ১৬ জুন সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিরুদ্ধে বিশ্বকাপে তাঁর গোলের খাতা খুলেছিল। আর ঠিক কুড়ি বছর পর, ২০২৬ সালের সেই ১৬ জুনেই আলজিরিয়ার বিরুদ্ধে হ্যাটট্রিক! দুই দশকের এমন অবিশ্বাস্য ব্যবধানে বিশ্বমঞ্চে আর কোনও গোলদাতা গোল করতে পারেননি। ২০০৬ থেকে শুরু করে দুই মহাতারকাই এবার নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলছেন। রোনাল্ডোর ঝুলিতে আগের পাঁচটি আসরেই গোল করার বিরল রেকর্ড থাকলেও, এবারের শুরুতেই তিনি এবং তাঁর পর্তুগাল রীতিমতো বিবর্ণ। সেখানে মেসি একাই যেন গোটা টুর্নামেন্টে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেছেন।
মেসির দল শেষ পর্যন্ত কত দূর যাবে, তা হয়তো সময়ই বলবে। কিন্তু রেকর্ডের এই অভাবনীয় ফুলঝুরির পর, দশকের পর দশক ধরে চলা মেসি-রোনাল্ডো বিতর্কের সমাধান হয়তো আর্জেন্টাইন মহাতারকা এবার নিজের পায়েই করে দিলেন।

