উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বিয়ের পিঁড়িতে বসার দেড় মাসের মধ্যেই স্বপ্নের সংসার পরিণত হল বিভীষিকায়। পণের দাবিতে লাগাতার শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের পর অবশেষে ঠাণের তরুণী বিশাখা তিলকরের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার ঘিরে ছড়িয়েছে তীব্র উত্তেজনা (Dowry Dying)। ভোপালের ত্বিশা শর্মার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মহারাষ্ট্রে (Maharashtra) এই অমানবিক মৃত্যু ফের একবার নারী নিরাপত্তা ও যৌতুক প্রথার কালো দিকটিকে সামনে নিয়ে এল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৩০ এপ্রিল নিতিন তিলকরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন বিশাখা। পেশায় চিকিৎসক স্বামী নিতিন বরাবরই ছিলেন সন্দেহবাতিক। অভিযোগ, বিশাখা কার সাথে কথা বলছেন বা কোথায় যাচ্ছেন—সেসবের ওপর নজর রাখতে বাড়ির অন্দরেই গোপন ক্যামেরা বসিয়েছিলেন তিনি। শুধু নজরদারিই নয়, প্রতিনিয়ত যৌতুকের জন্য টাকা ও গয়নার দাবিতে শুরু হয় অকথ্য নির্যাতন।
বিশাখার পরিবারের সদস্যদের দাবি, এই অত্যাচারের কথা তিনি আগেই বাপের বাড়িতে জানিয়েছিলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মঙ্গলবারই তাঁকে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু সেই মঙ্গলবারই তাদের কাছে পৌঁছায় বিশাখার মৃত্যু সংবাদ।
বিশাখার আত্মীয়দের অভিযোগ, শুধু স্বামী নিতিন নন, এই নারকীয় নির্যাতনের সঙ্গী ছিলেন বিশাখার শাশুড়ি ছায়া তিলকর এবং দেওর নিনাদ। প্রতিবেশীদের সাথে কথা বললেও তরুণীকে মারধর করা হত বলে অভিযোগ। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ বিশাখার স্বামী, শাশুড়ি ও দেওর—তিনজনকেই গ্রেফতার করেছে।
সম্প্রতি ভোপালের তরুণী ত্বিশা শর্মার রহস্যমৃত্যু নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। পণের দাবিতে খুনের অভিযোগে সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই মামলা গড়িয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট পর্যন্ত। ত্বিশার পরিবারের মতোই বিশাখার বাবা-মা এখন বিচারের আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন। উচ্চশিক্ষিত এবং চিকিৎসক পরিবারের অন্দরে এ ধরনের ঘটনা (Home Violence) সমাজকে এক গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে কি কেবলই পণের চাপ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

