Mahakal Temple | মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস আজ, আসছেন মমতা, খরচের উৎস নিয়ে তোপ রাজু বিস্টের

Mahakal Temple | মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস আজ, আসছেন মমতা, খরচের উৎস নিয়ে তোপ রাজু বিস্টের

শিক্ষা
Spread the love


রাহুল মজুমদার ও বিশ্বজিৎ সাহা, শিলিগুড়ি ও মাথাভাঙ্গা: প্রস্তুতি শেষ। শুক্রবার ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ মন্দিরের (Mahakal Temple) শিলান্যাস করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছেন পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপক থেকে শিল্পপতিরা। লোক আনতে জেলায় জেলায় টার্গেট বেঁধে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এদিকে, রাজনীতির ময়দানে তাদের একচুলও জমি ছাড়তে নারাজ বিজেপি। (BJP)

বৃহস্পতিবার এই মন্দির তৈরির খরচ নিয়েই প্রশ্ন তুললেন দলের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র তথা দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্ট (Raju Bista)। তাঁর সঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন শিলিগুড়ি মহকুমার তিন পদ্ম বিধায়ক শংকর ঘোষ, দুর্গা মুর্মু ও আনন্দময় বর্মন। ছিলেন বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল।

রাজুর প্রশ্ন ছিল, ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে মন্দির তৈরির কথা থাকলেও কেন সরকারি ব্যানারে সমস্ত অনুষ্ঠান হচ্ছে? সরকারের তরফেই বা কেন আমন্ত্রণের চিঠি যাচ্ছে? সাংসদের বক্তব্য, ‘আমরা রাম মন্দির তৈরি করেছিলাম। সারা দেশ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা ট্রাস্টে জমা পড়েছিল। পশ্চিমবঙ্গে একের পর এক মন্দির হচ্ছে, কিন্তু টাকার উৎস কেউ জানে না। কীভাবে কাজ হচ্ছে, তাও জানি না। তবে সরকার থেকে যাওয়ার আগে একটা শুভ কাজ করে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

পদ্ম নেতৃত্বকে পালটা তোপ দেগেছেন শিলিগুড়ির মেয়র। গৌতম দেবের উক্তি, ‘রাজু বিস্টের এসব কথার কোনও উত্তর দেব না। অনুষ্ঠান হচ্ছে এবং হবেই। মহাকালধাম বাংলার উন্নয়নের মুকুটের উজ্জ্বল পালক হতে চলেছে।’

মাথাভাঙ্গা শহরের বাসিন্দা পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপক ভাওয়াইয়াশিল্পী গীতা রায় বর্মনকে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এদিন সন্ধ্যায় তঁার বাড়িতে আমন্ত্রণপত্র পৌঁছায়। তবে তিনি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন না বলে জানিয়েছেন। গীতার অভিযোগ, ২০২৪ সালে পদ্মশ্রী পাওয়ার পর থেকে ব্লক ও রাজ্য স্তরের ভাওয়াইয়া প্রতিযোগিতা ও অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বলছিলেন, ‘ভাওয়াইয়ার অনুষ্ঠান থেকেই আমাকে দূরে রাখা হচ্ছে। আমি অসম্মানিত।’ অপর পদ্মশ্রী সম্মান প্রাপক শিবমন্দিরের বাসিন্দা লেখক নগেন্দ্রনাথ রায় অবশ্য শুক্রবার যাচ্ছেন বলে বৃহস্পতিবার রাত অবধি ঠিক রয়েছে। বিকেল তিনটে নাগাদ সরকারি গাড়িতে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানান তিনি।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে ঘাসফুল ফোটানো তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। ভোট ঘোষণার আগেই তাই ধামের কাজ শুরু করে দেওয়া হচ্ছে তড়িঘড়ি। কিন্তু শিলান্যাস নিয়ে প্রচারে স্থানীয় নেতৃত্ব অনেকটা পিছিয়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মন্দিরস্থল ও তার আশপাশে ১০০ থেকে ১৫০ মিটারের মধ্যেই ব্যানার, পোস্টার লাগানো হয়েছিল। তাছাড়া, আর কোথাও চোখে পড়েনি। যা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয় শাসকদলের অন্দরে।

সূত্রের খবর, শিলিগুড়ি পুরনিগম, শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে শহরজুড়ে ব্যানার, পোস্টার লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই এসেছে কলকাতা থেকে। বুধবার রাতে শিলিগুড়িতে পৌঁছেছে। কিন্তু তারপরও লাগানো সম্ভব হয়নি। অথচ মহকুমা পরিষদ থেকে পুরনিগম, এসজেডিএ– সর্বত্র শাসকদলের লোকজন রয়েছেন। তবুও কেন প্রচারের আলো থেকে বাইরে তৃণমূল সরকারের এই প্রোজেক্ট? শিলিগুড়ির ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার শুধু বললেন, ‘সরকারি অনুষ্ঠান, তাই সমস্ত সরকারি দপ্তর থেকেই ব্যানার, পোস্টার শহরে লাগানো হচ্ছে।’

শাসকদলের তরফেও কিন্তু আলাদাভাবে প্রচার করা হয়নি। জগন্নাথধাম উদ্বোধনের আগে দলের মাদার ও যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সমাজমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার চালিয়েছিলেন। বিভিন্ন জায়গায় ব্যানার, পোস্টার লাগানো হয়। এবার তাও নেই। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা (সমতল) চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রুয়ালের যুক্তি, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শহরে ব্যানার, পোস্টার লাগানো শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে এসে পৌঁছেছিল, তাই খানিকটা সময় লাগছে।’ এ প্রসঙ্গে টিপ্পনী কাটছেন বিধানসভায় বিজেপির মুখ্যসচেতক শংকর ঘোষ। তঁার বক্তব্য, ‘শাসকদলের নেতারা মানুষকে ঠকান। কিন্তু শাসকদলের নেত্রী ভগবানকেও ঠকাতে ছাড়েন না। সরকারি নিয়ম অনুয়ায়ী, সরকারের অর্থে মন্দির-মসজিদ-গির্জা তৈরি করা যায় না। মহাকালের প্রকোপে এবার এদের বিসর্জন হবেই।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *