Ganges erosion | রাতের অন্ধকারে গর্জে উঠল গঙ্গা! পঞ্চানন্দপুর ঘাটে ভাঙনে আতঙ্ক

Ganges erosion | রাতের অন্ধকারে গর্জে উঠল গঙ্গা! পঞ্চানন্দপুর ঘাটে ভাঙনে আতঙ্ক

ভিডিও/VIDEO
Spread the love


মোথাবাড়ি: রাত তখন প্রায় সাড়ে ন’টা-১০টা। গঙ্গার ঘাট থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন মাঝিরা। কিছু তরুণ নদীর ঘাটে খোলা নৌকায় বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। গ্রামের মানুষ রাতের খাওয়া সেরে বেশিরভাগই ঘুমিয়ে পড়েছেন, অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। হঠাৎ শুরু গঙ্গার (Ganges) গর্জন, গঙ্গাপাড়ের মানুষের কাছে অত্যন্ত চেনা এই শব্দ। গঙ্গার এই গর্জনে মাঝেমধ্যেই দিশেহারা হয়ে পড়েন পঞ্চানন্দপুরের মানুষজন।

ফলে গোটা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিমেষের মধ্যে গঙ্গার প্রবল জলরাশি আছড়ে পড়তে শুরু করে। মোথাবাড়ির (Mothabari) পঞ্চানন্দপুর গঙ্গাঘাটে শুরু হয় ভয়ানক গঙ্গাভাঙন (Ganges erosion)। প্রবল জলস্রোতে ঘাটের বেশ কিছু অংশ মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। মাটির বড় বড় চাপ পড়তে থাকে গঙ্গায়।

ভাঙন শুরু হয়েছে, এই খবর জেনে পঞ্চানন্দপুরের সুলতানটোলা, বিনতোলা সহ আশপাশের এলাকার মানুষজন গঙ্গার ঘাটে জড়ো হন। সকলে মিলে নদী পাহারা দিতে শুরু করেন। রবিবার সারারাত মোটামুটি জেগেই কাটান তাঁরা। সোমবার সকালে সেখানে গিয়ে দেখা যায় গঙ্গার উত্তাল জলরাশি অনেকটাই শান্ত হয়েছে। তবে এখনও আতঙ্কে এলাকার মানুষজন। এদিন সকালেই এলাকার বিধায়ক নজরুল ইসলাম সহ পঞ্চানন্দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান তানজিরা খাতুন, কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও কৈলাস প্রসাদ, বিজেপি নেতা নিবারণ ঘোষ সহ সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।

গ্রামবাসী শাজাহান শেখ বলেন, ‘রাতের খাওয়াদাওয়া সেরে ঘুমোতে যাব সেই সময় গ্রামের মধ্যে হইহট্টগোল শুরু হয়ে যায়। বাড়ি থেকে বেরিয়ে দেখি প্রচুর মানুষ দৌড়ে যাচ্ছেন নদীর ধারে। আমার আর বুঝতে বাকি থাকে না যে ভাঙন আবার শুরু হয়েছে। গিয়ে দেখি নদীপাড়ের বেশ কিছু অংশ গঙ্গায় তলিয়ে গিয়েছে। ভাঙন হয়েই চলেছে।’

বিনটোলার বাসিন্দা অনুপ মণ্ডল জানান, পঞ্চানন্দপুর নদীঘাটে বেশি ভাঙন হয়েছে। তবে নদীঘাট থেকে পূর্ব দিকে লোকালয়ের দিকে প্রায় ২০০ মিটারেরও বেশি জায়গা নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। সবেমাত্র নদীর জল বাড়তে শুরু করেছে। আর প্রথম দিকেই যদি এ রকম ভাঙন শুরু হয়, তাহলে নদীর জল বেশি বাড়লে ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়বে বলে মনে হচ্ছে। তাঁরা সকলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মোথাবাড়ি বিধানসভার বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘রাতে প্রচণ্ডভাবে গঙ্গাভাঙন হয়েছে। বেশ কিছু অংশ গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। সকালেই আমরা এলাকায় ছুটে গিয়েছিলাম। আমি সেচ দপ্তরকে বিষয়টি লিখিত আকারে জানিয়েছি। আগামীদিনে বিধানসভাতেও আমি ভাঙন রোধের বিষয়টি তুলব। অতিসত্বর ভাঙন রোধের ব্যবস্থা করার আবেদন জানাব। বিডিও সাহেবও নির্দিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানিয়েছেন।’



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *