পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি: বিল জটিলতায় কার্যত বন্ধ হয়ে গেল জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) চা নিলামকেন্দ্র। পুনরায় চালুর পর মাত্র ৪টি নিলাম হয়েছে কেন্দ্রটিতে। কিন্তু নিলামে চা কিনে টাকা জমা করেও বিল না মেলায় চা কিনতে আসছেন না বড় ক্রেতারা। ফলে ২৮ জুলাই ও ৪ অগাস্ট নির্ধারিত নিলাম হয় কেন্দ্রটিতে। জটিলতা কাটিয়ে কবে সেটি চালু হবে, তা-ও অনিশ্চিত।
সূত্রের খবর, বিলিং ব্যবস্থার সরলীকরণ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে টি বোর্ডের কাছে। কিন্তু সেখান থেকে সদর্থক সাড়া মেলেনি। জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান পুরজিৎ বক্সীগুপ্ত বলছেন, ‘পুনরায় চা নিলাম প্রক্রিয়া চালুর জন্য প্রচেষ্টার খামতি রাখছি না।’
প্রায় এক দশক বন্ধ থাকার পর গত মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে জলপাইগুড়ি চা নিলামকেন্দ্র (Jalpaiguri Tea Public sale Middle) পুনরায় চালু হয়। জুন থেকে জুলাইয়ের চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত ভালোই চলছিল নিলাম। ২৯ নম্বর সেলে শেষবার চা নিলাম হয়েছিল ২১ জুলাই। কিন্তু পরের দুটি সোমবার ২৮ জুলাই এবং ৪ অগাস্ট চা না আসায় বন্ধ হয়ে যায় নিলাম প্রক্রিয়া।
এই চা নিলামকেন্দ্রে ৯৫ শতাংশ চা আসত বটলিফ ফ্যাক্টরি থেকে। বটলিফের থেকে চা আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাদের সংগঠন নর্থবেঙ্গল টি প্রোডিউসার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং টি অকশন টাস্ক ফোর্সের চেয়ারম্যান সঞ্জয় ধানুটি বলছেন, ‘আমাদের বটলিফ ফ্যাক্টরি চা পাঠাচ্ছিল। অনেক দৌড়ঝাঁপ করে নিলামকেন্দ্র চালু করেছিলাম। কিন্তু চা নিলামে কিনে অনলাইনে পেমেন্ট করার পর বিলের ইনভয়েস আসতে অনেক দেরি হচ্ছিল। ফলে যাঁরা বড় ব্রোকার তাঁরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।
বিষয়টি ইতিমধ্যে টি বোর্ডকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় বলছেন, ‘আমিও শুনেছি নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ। টি বোর্ডের সঙ্গে কথা বলব।’ এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে টি বোর্ডের রাজ্যের সহকারী অধিকর্তা সমরেশ মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
