Laljhamela Basti | ‘মাতাল’-এর আতঙ্কে তটস্থ লালঝামেলাবস্তি

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


শুভজিৎ দত্ত, নাগরাকাটা : ‘বেলচার’ রক্ষে নেই, দোসর হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘মাতাল’। হাড়িয়াপ্রেমী দাঁতাল মাতালের দাপটে এখন তটস্থ লালঝামেলবস্তি সহ সংলগ্ন এলাকা। হাড়িয়ার টানে প্রায়দিনই তার হানাদারি চলছে বস্তির কোথাও না কোথাও। বুধবার গভীর রাতেও দাঁতভাঙা মাতাল হানা দেয় লালঝামেলাবস্তির একটি বাড়িতে। ভেঙে দেয় প্রবীণ রামবাহাদুর ছেত্রীর বাড়ির একাংশ। কোনও রকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন রামবাহাদুরের স্ত্রী ফুলমায়া। বেলচার মতোই মাতালকে বাগে আনতে এখন গলদঘর্ম দশা বন দপ্তরের ডায়না রেঞ্জের কর্মীদের। রেঞ্জ অফিসার সাম্য রায় বলেন, ‘সতর্কতার সঙ্গে নজর রেখে চলা হচ্ছে। খবর পাওয়া মাত্রই বনকর্মীরা ছুটে যাচ্ছেন।’

বিশেষ গুণ থাকলে অনেক ক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের নাম রাখে বন দপ্তর। অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রধানদের নাম রাখার নজির রয়েছে; কিন্তু ‘মাতাল’ নামকরণের পিছনে রয়েছেন স্থানীয়রাই। এর পিছনে রয়েছে হাতিটির সুরা বা হাড়িয়াপ্রেম। সুযোগ পেলেই মুহূর্তে এক হাঁড়ি হাড়িয়া সাবার করে দিতে ওস্তাদ মাতাল, বলছেন গ্রামবাসীরা। একটি দাঁত ভাঙা থাকলেও লালঝামেলাবস্তিতে বুনোটি ঝামেলা করেই চলেছে কয়েকদিন ধরে। কয়েকদিন আগে লাগোয়া রেডব্যাংক চা বাগানে এক শ্রমিকের ঘর ভেঙে হাড়িয়া খেয়ে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটিয়েছিল মাতাল। রাত আটটা নাগাদ একটি দোকানও ভেঙে ফেলে সে। হাতিটি এতটাই বদমেজাজি যে তাকে তাড়াতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রে পালটা তাড়া খেয়ে পালাতে হয়েছে বনকর্মীদের।

মাতাল হাতিটি মূলত ডেরা বেছে নিয়েছে ডায়না নদীসংলগ্ন ডায়না জঙ্গলকে। এখান থেকেই ‘নীলনকশা’ তৈরি করে অভিযান চালায় ভুটান সীমান্তের লালঝামেলাবস্তি সহ বিভিন্ন জায়গায়। দলের ভিড়ে থাকলেও অপারেশনের ক্ষেত্রে সঙ্গে নেয় না কাউকে; অর্থাৎ হাড়িয়ায় ভাগ বসাতে দিতে নারাজ মাতাল। হাড়িয়ার মৌতাত পেয়ে এখন মাতালের অন্য কিছুতে মন নেই বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ বনকর্মীরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড়িয়া বরাবরই হাতির প্রিয়, যে কারণে জঙ্গলসংলগ্ন চা বাগান এলাকায় হাড়িয়া মজুত করে না রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। লালঝামেলাবস্তির দিব্যেশ রিজাল বলেন, ‘কখনও বেলচা, আবার কখনও রেডিও কলার পরানো একটি দলছুট হাতি হামলা চালায়। এখন শুরু হয়েছে মাতালের তাণ্ডব। সন্ধ্যা হলেই ভয়ে গোটা গ্রাম দরজায় খিল আঁটছে। তাতেও আর রক্ষা মিলছে কোথায়!’

বন দপ্তর সূত্রে খবর, বর্তমানে ডায়না রেঞ্জ এলাকায় মোট পাঁচটি দলছুট হাতি রয়েছে। এর বাইরেও ১৫-২০টি হাতির একটি দল ডায়নার জঙ্গলে রয়েছে; তবে সেগুলি খুব বেশি বাড়াবাড়ি করছে না। বনকর্মীদের ঘুম কেড়েছে দলছুট বেপরোয়া হাতিগুলি। সম্প্রতি এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে ডায়না নদীতে বেলচার সঙ্গে মাতালের লড়াইয়ের সাক্ষীও হয়েছেন অনেকে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *