উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: আগে তাঁর চেনা পরিচিতি ছিল লম্বা চুল, সাদাসিধে শাড়ি আর পায়ে হাওয়াই চপ্পলে। চলন-বলনে অনেকেই তাঁর মধ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া খুঁজে পেতেন। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর, ঘাসফুল শিবিরের সেই অন্যতম প্রধান ‘পোস্টার গার্ল’ সায়নী ঘোষেরই যেন এক লহমায় ভোলবদল ঘটে গেল (Sayoni Ghosh insurgent TMC MP)। সায়নীর এই বাহ্যিক রূপান্তর কি আসলে তাঁর গভীর কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তনেরই আগাম ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
গত ২ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা আন্দোলনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করার পর হঠাৎই রহস্যজনক নীরবতা পালন করছিলেন যাদবপুরের এই তারকা সাংসদ। সেই নীরবতা ভাঙল রবিবার, তবে সম্পূর্ণ এক নতুন সমীকরণ ও নতুন অবয়বের সাথে। কাঁধ ছোঁয়া ছোট চুল আর কুর্তি পরা সায়নী যখন দিল্লির বিমান ধরতে বিমানবন্দরে পৌঁছালেন, তখন তাঁকে চেনা দায়।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, দিল্লিতে যখন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে বৈঠক সেরে এনডিএ (NDA)-তে যোগ দেওয়ার সলতে পাকা করছেন, তখন সেই স্বাক্ষরকারী ১৯ জন সাংসদের তালিকায় ১০ নম্বরে জ্বলজ্বল করছে সায়নী ঘোষের নাম। লোকসভায় কাকলী ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে এই বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীটি সোমবার স্পিকারের কাছে গিয়ে নিজেদের ‘নতুন ব্লক’ (New TMC Block NDA) হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। উল্লেখ্য, বিধানসভাতেও ইতিমধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল ব্লক’ তৈরি হয়ে লোকসভার এই বিদ্রোহের জমি প্রস্তুত করে রেখেছিল।
দিল্লি উড়ে যাওয়ার আগে সায়নীকে যখন তাঁর এই শিবির বদল নিয়ে ছেঁকে ধরেন সাংবাদিকরা, তখন তিনি কোনো জল্পনা উড়িয়ে না দিয়ে বরং রহস্য আরও বাড়িয়ে বলেন, “এখন কিছুই বলব না। যখন বলার সময় আসবে, ঠিক বলব। ধীরে ধীরে সব জানতে পারবেন। আর আমি সাংবাদিকদের জবাব দেব না, জবাব দিতে হলে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।”
কৌতূহলের বিষয় হলো, সায়নী যখন ভেতরে ভেতরে এনডিএ শিবিরের দিকে জল মাপছিলেন, তখনও তাঁকে তৃণমূলের যুব সংগঠনের গুরুদায়িত্বে রাখা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষুব্ধদের তালিকায় নাম ফাঁস হতেই তড়িঘড়ি তাঁকে সেই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। চূর্ণ-বিচূর্ণ তৃণমূলের এই মহাসংকট কালে সায়নীর এই দিল্লি যাত্রা এবং তাঁর নতুন ‘লুক’ বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা বলাই বাহুল্য।
