Kumarganj | বেহাল পরিকাঠামোয় ধুঁকছে কুমারগঞ্জের স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

Kumarganj | বেহাল পরিকাঠামোয় ধুঁকছে কুমারগঞ্জের স্বাস্থ্য পরিষেবা, চিকিৎসা পেতে চরম ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

খেলাধুলা/SPORTS
Spread the love


কুমারগঞ্জ: বর্তমানে কুমারগঞ্জ (Kumarganj) ব্লকে তিনটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। দিওর, বটুন ও মোল্লাদিঘিতে। তবে সেগুলির মধ্যে দিওর ও বটুন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনও শয্যা পরিষেবা নেই, শুধু বহির্বিভাগ চালু রয়েছে। আর মোল্লাদিঘির সমজিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাত্র ১০টি বেড থাকলেও ভবন ও পরিকাঠামোর অভাব দীর্ঘদিনের। বরাহারের কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালই ব্লকের একমাত্র বড় চিকিৎসাকেন্দ্র। কিন্তু পরিকাঠামোর সমস্যা রয়েছে সেখানেও। ডাক্তার থেকে শুরু করে শয্যার সংখ্যা, সবকিছুই অপর্যাপ্ত। সম্প্রতি কুমারগঞ্জ বিধানসভার স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি তুলে বিধানসভায় সরব হয়েছেন বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল। তিনি বরাহারে অবস্থিত কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল, মোল্লাদিঘির সমজিয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং চালুন গ্রামীণ হাসপাতালের উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তাঁর বক্তৃতায়।

কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে (Kumarganj Hospital) বর্তমানে মোট আটজন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও বিএমওএইচ-এর স্থায়ী পদ এখনও শূন্য। তাপস তালুকদার সেখানকার অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। হাসপাতালের ডেন্টাল সার্জনের পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। হাসপাতালটিতে ৩৫টি বেড থাকলেও তা যথেষ্ট নয়। রোগীর চাপ অনেক বেশি। স্থানীয়দের দাবি, এটিকে ১০০ বেডের হাসপাতালে উন্নীত করা হোক। আরও ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এই গ্রামীণ হাসপাতালে শুধু স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা রয়েছে। সিজারিয়ান বা বড় অস্ত্রোপচারের জন্য রোগীদের বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। ‘রেফার’ এখানে নিয়মিত শব্দ। যদিও নিয়মিতভাবে পরিবার পরিকল্পনার লাইগেশন অপারেশন করা হয়।

হাসপাতালে ১০ জন নার্স ও ১০ জন জরুরি পরিষেবার কর্মী থাকলেও রোগীর চাপের তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। গরমের সময় ওয়ার্ডের পরিবেশ হয়ে ওঠে অসহনীয়। রোগীদের ভোগান্তি বাড়ে। রোগীর আত্মীয়দের দাবি, ভবনের ছাদের ওপর অতিরিক্ত ছাউনি নির্মাণ করলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। পরিস্রুত পানীয় জলের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির দেওয়া একটি মেশিন দীর্ঘদিন বিকল। রোগীর পরিজনদের প্রতীক্ষালয়ে কুকুর-বিড়ালের অবাধ বিচরণ নিয়েও অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, কুমারগঞ্জ ব্লকের পাশাপাশি গঙ্গারামপুরের চালুন ও অশোকগ্রাম এলাকার বহু মানুষও এই হাসপাতালের উপর নির্ভরশীল। সিপিএম নেতা মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘কুমারগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অন্তত ১০০ বেডের আধুনিক হাসপাতাল এবং এসএনসিইউ ইউনিট গড়ে তোলা উচিত।’

এদিকে সমজিয়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মাসে ১৫টির বেশি প্রসব হয়। দেড়শোর কাছাকাছি রোগী ভর্তি থাকে। প্রতিদিন ৩০০-রও বেশি রোগী বহির্বিভাগের পরিষেবা নেন। সেখানে আরও ঘরের প্রয়োজন। পুরোনো ভবনগুলো ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে রয়েছে।

একইরকমভাবে দিওরের প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও নতুন ভবনের প্রয়োজন। সেখানে ইন্ডোর বিভাগ নেই। বটুনেও বেডের সুবিধা নেই। ব্লকের একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একাধিক পদ ফাঁকা রয়েছে। চালুন গ্রামীণ হাসপাতালে রোগী ভর্তির সুবিধা না থাকায় গঙ্গারামপুর (Gangarampur) ব্লকের চালুন ও অশোকগ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দারাও বাধ্য হয়ে বরাহারে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা পরিষেবা নিতে।

তৃণমূল আমলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলির পরিকাঠামোগত কোনও উন্নয়ন হয়নি বললেই চলে। বিজেপি সরকারের বিধানসভায় তোরাফ বর্তমানে বিরোধী দলের বিধায়ক। তাঁর দাবি তোলার পর বর্তমান সরকারের এদিকে নজর পড়ে কি না, সেটাই দেখার।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *