উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্কঃ ভোট পরবর্তী আবহে তৃণমূলের ভাঙন এবং ‘আসল তৃণমূল’-এর আত্মপ্রকাশ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে (West Bengal Politics) তুঙ্গে জল্পনা। কিন্তু যাত্রা শুরুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কি দলের অন্দরে দেখা দিল মতপার্থক্য? বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দলের ‘পরামর্শদাতা’ হিসেবে পেতে চান। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠকের পর সুর যেন বদলে গেল অনেকটা। পাঁচলার বিধায়ক গুলশন মল্লিকের দাবি, মমতাদিকে কোনো অবস্থাতেই কেবল পরামর্শদাতা নয়, বরং ‘সর্বোচ্চ নেত্রী’ হিসেবেই দেখতে চান তাঁরা।
গুলশন মল্লিকের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মমতাদিকে বাদ দিয়ে কিছু করব, এমন ইচ্ছা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দলের বিধায়কদের একাংশ হয়তো মূল ধারার তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কোনো প্রকার দূরত্ব মানতে নারাজ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি এই শিবিরের অনাস্থা অটুট থাকলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে দলের ‘হায়ারার্কি’ ঠিক কী হবে, তা নিয়ে বড়সড় টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
গুলশন মল্লিকের হুঁশিয়ারি—দল যদি মমতাজিকে সর্বোচ্চ নেত্রী হিসেবে গ্রহণ না করে, তবে প্রয়োজনে এই নতুন পথ থেকে সরে আসার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতেও দ্বিধা করবেন না তিনি। ফলে ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন এই নতুন দলের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী অবস্থানের ওপর।
৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও, শুরুতেই নেতৃত্বের সংজ্ঞাকে কেন্দ্র করে এই মতবিরোধ ‘আসল তৃণমূলে’র (TMC) স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখে নতুন দল গঠনের যে কৌশল ঋতব্রত নিয়েছেন, তা নিজেই নিজের জালে জড়িয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। কারণ, তৃণমূল সুপ্রিমো নিজেও এই ‘আসল তৃণমূল’-কে কতটা গুরুত্ব দেবেন, তা নিয়ে এখনও বড় ধোঁয়াশা রয়েছে।
