Balurghat | বদলে গিয়েছে আত্রেয়ীর গতিপথ, ‘ভিলেন’ চেক ড্যাম

Balurghat | বদলে গিয়েছে আত্রেয়ীর গতিপথ, ‘ভিলেন’ চেক ড্যাম

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


বালুরঘাট: আত্রেয়ী (Atreyee River) নদীর দু’পাড়ের বাঁধের রাস্তায় ভাঙন ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বালুরঘাটে (Balurghat)। গত সপ্তাহখানেক সময় ধরে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বাঁধের নীচ থেকে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শহরের পূর্ব প্রান্তে রথতলা সহ একাধিক এলাকায় বাঁধের রাস্তার নীচের মাটি সরে গিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে। নদীর পশ্চিম প্রান্তের চকভৃগু এলাকার ভৈরবীতলায় বাঁধের রাস্তার নীচ থেকেও মাটি সরে গিয়েছে। চেক ড্যামের পশ্চিম প্রান্তে ডাকরা এলাকায় নদীর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে।

আর এই সবকিছু নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রশ্ন উঠছে, বারবার কেন এমনটা হচ্ছে? পরিবেশবিদদের একাংশের দাবি, আত্রেয়ী তার স্বাভাবিক গতিপথ হারিয়েছে। আর নদীর চরিত্র বদলে যাওয়ার নেপথ্যে মূলত স্বল্প উচ্চতার চেক ড্যামকেই দায়ী করছেন তাঁরা। পরিবেশপ্রেমী ও ভূগোলের শিক্ষক তুহিনশুভ্র মণ্ডলের দাবি, ‘চেক ড্যামের জন্য নদীর গতিপথ ও চরিত্র বদলে গিয়েছে। তার সঙ্গে অবাধে নদীবক্ষ থেকে বালি তোলার ফলেও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদী যেন এখন নিজেই বুঝতে পারছে না কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত হবে।’

আত্রেয়ী নদী বালুরঘাট শহরের উত্তর দিক থেকে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণে নেমে গিয়েছে। শহরকে কার্যত পূর্ব ও পশ্চিম দুই ভাগে বিভক্ত করেছে। আর সেই দু’পাড়ের বাঁধের রাস্তাই এখন ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তিন বছর আগে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর ওপর প্রায় ১৯৫ মিটার দীর্ঘ ও ২ মিটার উচ্চতার একটি চেক ড্যাম তৈরি হয় চকভবানী থেকে ডাকরা পর্যন্ত। নির্মাণের এক বছরের মধ্যেই চেক ড্যামে ফাটল দেখা দেয়। পরে তার একাংশ ভেঙেও পড়ে। বর্তমানে সেই ভাঙা অংশ দিয়েই প্রবল স্রোতে জল প্রবাহিত হচ্ছে। তার জেরেই নদীর পূর্ব ও পশ্চিম দু’দিকের বাঁধের রাস্তায় ভাঙন বাড়ছে বলে অভিযোগ। চকভৃগুর বাসিন্দা অজিত মহন্ত বলেন, ‘এখন যদি বাঁধের রাস্তাগুলো এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে, তাহলে নদীর জল ঢুকে যে কোনও সময় বন্যা হতে পারে। প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, চেক ড্যাম তৈরির আগে নদী স্বাভাবিক গতিতে প্রবাহিত হত। ড্যাম নির্মাণের পর উত্তর দিকে জল জমে থাকলেও দক্ষিণ দিক কার্যত শুকিয়ে গিয়েছিল। পরে ড্যামের একাংশ ভেঙে যাওয়ার পর নদীর প্রবাহে নতুন করে পরিবর্তন আসে। তারই প্রভাব এখন বিভিন্ন এলাকায় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আখিরাপাড়ার বাসিন্দা ব্যবসায়ী শিবপ্রসাদ মণ্ডল বলছিলেন, ‘ছোটবেলা থেকে নদীর পাশে বড় হয়েছি। এখন সেই নদীকে চিনতেই পারি না। নদীর গতিপথে আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন জায়গায় পাড় ভাঙছে, বাঁধের রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

আত্রেয়ী নদীর ড্যাম সংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকা রবিবার বিকেলে পরিদর্শন করেন বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায়। ভাঙন রোধের কাজের ধীরগতি, পর্যাপ্ত শ্রমিক ও সরঞ্জামের অভাব সহ একাধিক অভিযোগ তাঁর সামনে তুলে ধরেন এলাকাবাসী। কাজের গতি বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস দেন বিধায়ক। তাঁর মতে, বর্তমানে যে জায়গায় ড্যাম রয়েছে, সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে সীমান্ত সংলগ্ন নিরাপদ স্থানে নতুন করে ড্যাম নির্মাণ করা উচিত।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *