পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : দান-খয়রাতি শুরু হয়ে গিয়েছে কৃষ্ণ দাসের। টানা পাঁচ মাস আত্মগোপন করে থেকে বাড়ি ফিরেছেন চারদিন আগে। ইতিমধ্যে দুয়ারে চলে এসেছেন সাহায্যপ্রার্থীরা। রংধামালির বাড়ির সেই ড্রয়িং রুমে বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেল সস্ত্রীক জলপাইগুড়ির তাপস দাসকে। নিজের চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমসিম অবস্থা। ভরসা ছিল, ‘কৃষ্ণদা’ ফেরাবেন না। ফেরালেনও না। হয়তো আগের মতো দরাজহস্ত নয়। তবে একেবারে কমও নয় তাঁর দান।
শুধু তাপস নন, পাহাড়পুরের সাহিদা বেগম কিংবা সারিয়ামের অনীত দেবনাথও গিয়েছিলেন প্রাক্তন দাপুটে তৃণমূল নেতার দুয়ারে। নানা প্রয়োজনে তাঁরা অর্থ সাহায্যপ্রার্থী। কাউকেই নিরাশ করেননি কৃষ্ণ। দেখে কে বলবে, পাঁচ মাস লুকিয়ে থাকতে হয়েছে! মামলা-মোকদ্দমা, বাইরে বাইরে থাকার খরচও তো নেহাত কম হয়নি। তারপরেও ফেরার তিনদিনের মাথায় এমন ‘দাতাকর্ণে’র ভূমিকায় প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
বিজেপির রাজগঞ্জ ব্লকের উত্তর মণ্ডল কমিটির সহ সভাপতি তপন রায়ের অভিযোগ, ‘তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন নদী থেকে বালি চুরি করে বিক্রি করেছেন কৃষ্ণ। বিভিন্ন কাজ পাইয়ে দিয়ে কাটমানি আদায় করেছেন। তোলাবাজির অভিযোগও ছিল। হয়তো আগের কিছু অর্থ রয়ে গিয়েছে। সেসব এখন খরচ করছেন।’ কৃষ্ণ যে ফিরে এসেই সামাজিক কাজকর্মের নামে টাকা ঢেলে সক্রিয় হয়ে উঠছেন, সেদিকে নজর রয়েছে বিজেপির রাজ্য স্তরের নেতৃত্বেরও।
দলের রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর কথায়, ‘যেভাবে কাটমানি, তোলাবাজি করেছেন, সেই জমানো টাকাতেই এখন সাহায্য করছেন। মানুষ এর জবাব দেবে নিশ্চয়ই।’ দান-খয়রাতির টাকার উৎসের প্রশ্ন অবশ্য কৃষ্ণ এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর সাফাই, ‘ঈশ্বরের কৃপায় ভালো আছি। শীর্ষ আদালতের রক্ষাকবচ পাওয়ার পরদিনই বাড়ি ফিরেছি। এসেই মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। কে কী বললেন, তা নিয়ে ভাবছি না।’
কৃষ্ণের বক্তব্য, ‘আসলে কাজ করার মানসিকতা থাকতে হবে। সরকারে কে আছে, না আছে দেখে লাভ নেই। মানুষের জন্য কাজ করার সদিচ্ছা থাকতে হবে। নইলে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই পারবেন না।’ জনরোষে যাঁকে পালাতে হয়েছিল, যাঁর বাড়িতে ও মেয়ের ওপর হামলা হয়েছে, তাঁর এমন সক্রিয়তার পিছনে ফের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করার পরিকল্পনা আছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবারই অবশ্য তিনি বলেছেন, রাজনীতি না করে তিনি বেঁচে থাকতে পারবেন না। কিন্তু কোন দলের রাজনীতি? সেটা নিয়ে বৃহস্পতিবারও খোলসা করলেন না। শুধু বললেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে কী করব, তা সময়মতো জানাব। মানুষের হয়েই কাজ করব। গত পাঁচ মাসে বিজেপি সরকারের কাজকর্ম নিয়ে মানুষের মনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালে আসার ৯ বছর পর থেকে বোঝা গিয়েছিল।’
যদিও রংধামালিতে তাঁর বাড়ির এলাকারও অনেকে বলাবলি করছেন- দেখবেন, কৃষ্ণ দাস বিজেপিতেই যাবেন। আবার আগের মতো বালি পাচার, তোলাবাজি শুরু করবেন। বিজেপির সঙ্গে ‘সেটিং’ হয়ে গিয়েছে। তাই দান-ধ্যান করে সক্রিয়তা বাড়াচ্ছেন। নিজের সমর্থক তৈরি করছেন এভাবে। এসব প্রচার কৃষ্ণ জানেন না, তা নয়। তবে তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, ‘আমার কানেও এই অপপ্রচার এসেছে।’

