শিলিগুড়ি: টানা প্রায় ৪৫ মিনিটের বৃষ্টিতে ফের জলমগ্ন হয়ে পড়ল শিলিগুড়ি (Siliguri waterlogging) শহরের একাধিক এলাকা। বুধবার সকালে বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও বাজার এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের। যার জেরে ফের একবার প্রশ্নের মুখে শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থা। শহরের টিকিয়াপাড়া মোড়, হাসপাতাল মোড়, হায়দরপাড়া বাজারের পাশাপাশি চম্পাসারি থেকে দার্জিলিং মোড়ের মাঝে নির্মীয়মাণ জাতীয় সড়কে বৃষ্টির জল দাঁড়িয়ে যায়। শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের সামনে, ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় জল জমে যায়।
এদিকে, এনজেপি এলাকায় এমনিতেই রাস্তার বেহাল দশা। তার ওপর বৃষ্টির জলে রাস্তার বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত জলাশয়ের চেহারা নেয়। জমা জলের মধ্যে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে টোটো, বাইক ও স্কুটি চলাচল করতে দেখা যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয় ওই এলাকায়। দেখা যায়, টোটোগুলি চলার সময় রাস্তার পাশে হেলে রয়েছে। সন্তোষ দাস নামে এক টোটোচালক এনজেপি স্টেশন থেকে যাত্রীদের নিয়ে ফিরছিলেন। সন্তোষের কথায়, ‘গর্ত কতটা গভীর তা জল জমে থাকায় বোঝা যায় না। হরদম ট্রাক চলছে। ফলে গর্ত গভীর হচ্ছে। টোটো ও দুই চাকার যানবাহন হামেশা দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে।’
বৃষ্টির জেরে চম্পাসারি থেকে দার্জিলিং মোড় যাওয়ার রাস্তার মাঝামাঝি অংশে হাঁটুসমান জল জমে যায়। সেই জমা জলের মধ্যে দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি ও টোটো চলাচল করতে দেখা যায়। জল পেরিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েন পথচারীরাও। জলনিকাশি ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্যদিকে, বৃষ্টির জেরে ফের জল জমে যায় শিলিগুড়ির হাসপাতাল মোড় এলাকায়। ইতিমধ্যেই বিশ্বকর্মাপুজোর প্রতিমা নিয়ে আসা শুরু হয়েছে। কিন্তু জল বাড়তে থাকায় প্রতিমা নিয়ে আসা মৃৎশিল্পীরা চিন্তায় পড়ে যান। প্রতিমা রাস্তার পাশে রাখা হয়। বিক্রম পাল নামে এক মৃৎশিল্পী বলেন, ‘টানা কিছুক্ষণ বৃষ্টি হলেই এখানে জল জমে যায়। এবারও তাই হল। জলনিকাশি বেহাল হওয়ার কারণে জল জমে যাচ্ছে।’ জল জমে যায় শিলিগুড়ি গার্লস হাইস্কুলের সামনে এবং হায়দরপাড়া বাজার এলাকাতেও। ফলে সমস্যায় পড়েন ওই এলাকার ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষ। বৃষ্টির জেরে টিকিয়াপাড়া মোড় এলাকাতেও জল জমে যায়। রাস্তার একাধিক অংশে জল থইথই করতে থাকায় যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়। টিকিয়াপাড়ার বাসিন্দা রাজেশ চৌহানের বক্তব্য, ‘এভাবে টিকিয়াপাড়া মোড়ে জল জমতে আগে দেখিনি। ড্রেনগুলি ঠিক করে পরিষ্কার না হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।’
গোটা শহরের নিকাশি ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে বলে দাবি করেছেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার বীরবিক্রম রাই। তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে ড্রেনগুলির ওপর অবৈধ নির্মাণ তৈরি হয়েছে। সেই নির্মাণ সরিয়ে নালা কেউ পরিষ্কার করতে দেয়নি। একদিনে তো সেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙা সম্ভব নয়। যেখানে আমরা পরিদর্শনের পর অবৈধ নির্মাণ পাচ্ছি, সেটা ভেঙে দিচ্ছি। যেই ড্রেনগুলি খোলা রয়েছে সেগুলি পরিষ্কার করছি।’
শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের চেকপোস্ট এলাকাতেও এদিন জল জমে যায়। পাশাপাশি ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমপাড়া এলাকার বিমল সিনহা সরণিতে বড় আকারের একটি গাছের ডাল ভেঙে পড়ে। ডাল ভেঙে পড়ায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায়। ফলে ওই এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। তাঁরা গাছের ভেঙে পড়া ডাল কেটে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন। পরে বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিষেবা স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন।

