মুর্শিদাবাদ: রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের জল্পনা অবশেষে কিছুটা হলেও থিতু করার চেষ্টা করলেন জঙ্গিপুরের তৃণমূল সাংসদ খলিলুর রহমান (Khalilur Rahman)। বুধবার নিজ লোকসভা কেন্দ্রে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, বিজেপিতে যোগদানের কোনো প্রশ্নই নেই। তবে দলবদলের জল্পনা উড়িয়ে দিলেও, এনডিএ জোট ও এনসিপিআই (NCPI)-কে সমর্থন করার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি দলের অন্দরে নতুন করে গুঞ্জন উসকে দিয়েছেন।
সাংসদ এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “২০২৪ সালে মানুষ আমাকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকে ভালোবেসে ভোট দিয়েছে। তাই বিজেপিতে যাওয়া বা তাদের সরাসরি সমর্থন করার প্রশ্নই ওঠে না।” এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফলাফলের প্রেক্ষিতে তিনি কিছুটা আক্ষেপ প্রকাশ করলেও, দলের প্রতি তাঁর আনুগত্য অটুট বলেই দাবি করেন।
কিন্তু দলবদলের জল্পনা খারিজ করলেও, তাঁর পরবর্তী মন্তব্য ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে তুঙ্গে চর্চা। তিনি বলেন, “দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে এনসিপিআই-এর পাশে দাঁড়িয়ে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ বলে তিনি জানান।
সাংসদের এই ‘ডিফেন্সিভ চাল’ তৃণমূলের অন্দরে এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিলেও এনডিএ জোটের প্রতি তাঁর এই নরম মনোভাব দলের জন্য অশনি সংকেত হতে পারে। কেন একজন তৃণমূল সাংসদ বিরোধী জোটের এজেন্ডাকে সমর্থন করছেন, তা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশও বেশ বিব্রত। জঙ্গিপুরের উন্নয়নকে ইস্যু করে তাঁর এই অবস্থান বদল ভবিষ্যতে কোনো বড় রাজনৈতিক পদক্ষেপের পূর্বাভাস কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সাংসদের এই মন্তব্যের পর থেকে খলিলুর রহমানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। একদিকে তৃণমূলের ওপর আস্থা রাখা, অন্যদিকে এনডিএ জোটের বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানানো—সাংসদের এই দ্বিমুখী অবস্থান আগামীদিনে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তৃণমূলের (TMC) অন্দরে খলিলুর রহমানের এই কৌশল নিয়ে এখন শুরু হয়েছে জোর গুঞ্জন।

