কিশনগঞ্জ: কাটিহারে আইনজীবী গুড্ডু আনসারি (Guddu Ansari) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চাঞ্চল্যকর সাফল্য পেল পুলিশ (Katihar Advocate Homicide Case)। পুলিশ সুপার পরিচয় কুমারের নির্দেশে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ৫ জন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ, স্কুটি, বাইক, ছুরি এবং রক্তমাখা পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে কাটিহার সদর থানা এলাকার হরিগঞ্জ চক ও প্যাটেল চকের মাঝের রাস্তায় একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী প্রকাশ্যে আইনজীবী গুড্ডু আনসারিকে গুলি করে ও উপর্যুপরি ছুরি চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এই ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি ওঠে। ঘটনার পরেই কাটিহারের পুলিশ সুপার পরিচয় কুমারের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ এসআইটি গঠিত হয়। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে এবং মোবাইল লোকেশন ট্র্যাক করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ ৫ জন অভিযুক্তকে পাকড়াও করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ৫ জনের নাম— মহম্মদ রেহান (২১), মহম্মদ আসফাক (২৩), মহম্মদ ইনায়াত (২০), মহম্মদ মোহফুজ (১৯) এবং মহম্মদ মুন্না আখতার (৪২)। এদের কাছ থেকে ১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি কার্তুজ, ১টি স্কুটি, ১টি বাইক, ১টি চাকু, ৫টি মোবাইল এবং হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্তদের গায়ে থাকা রক্তমাখা পোশাক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কাটিহার আদালত চত্বরেই মৃত আইনজীবী গুড্ডু আনসারির সঙ্গে ধিখিতদের কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে বচসা বা পুরনো বিবাদ হয়েছিল। সেই ক্ষোভের জেরেই এই পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ধৃতদের কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তে বেশ কিছু নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা ক্লু (Clue) হাতে এসেছে, তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সবটা প্রকাশ করা হচ্ছে না। বুধবার ধৃত সমস্ত অভিযুক্তকে কাটিহার আদালতে পেশ করা হবে।

