উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো কেন্দ্রের জনপ্রিয় ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্প। এতদিন প্রাক্তন সরকারের আমলে চালু থাকা ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামকরণ করা হলো ‘কন্যারত্ন’ (Kanyaratna scheme)। শুক্রবার ‘কন্যারত্ন’ দিবস পালনের বিশেষ অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বড় সুবিধা ও আর্থিক সাহায্য বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।
আলিপুরের ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ছোট ছোট মেয়েরা সকলেই ‘রত্ন’তুল্য। তারা যেন আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে মাতঙ্গিনী হাজরার মতো ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারে, তার জন্য সমস্ত রকম সহায়তা করবে সরকার। পূর্বের সরকারে স্কুলছাত্রীরা বছরে ১০০০ টাকা করে বৃত্তি পেলেও, ডবল ইঞ্জিন সরকারের (West Bengal Authorities) নতুন ঘোষণায় জানানো হয়েছে যে আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ ২০২৭ সাল থেকে এই আর্থিক সাহায্য দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রতি বছর ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। তবে চলতি বছরে স্কুলছাত্রীরা আগের নিয়মেই এককালীন ১০০০ টাকা করে পাবে।
এদিনের ঘোষণা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রী এই আর্থিক সুবিধার আওতায় আসছে। আর এই উদ্দেশ্যে মোট ৪০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা আজ থেকেই ছাত্রীরা হাতে পেতে শুরু করবে। এর পাশাপাশি স্কুল পড়ুয়াদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে এবং সহায়তার জন্য একটি নতুন হেল্পলাইন নম্বর (১৮১) চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ‘বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ’-এর মাধ্যমে এককালীন ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার ব্যবস্থাও বহাল রাখা হয়েছে।
অতীতে রাজ্যের নিজস্ব বৃত্তির ওপর ভর করে মেয়েদের শিক্ষার প্রসার ঘটলেও, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ প্রকল্পের সঙ্গে বাংলা আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হওয়ায় ছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই সাহসী ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপে বাংলার পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল ও সুরক্ষিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

