অভিজিৎ ঘোষ, আলিপুরদুয়ার: বাঘ আসবে বলে বর্তমানে বক্সায় (Buxa) সাজোসাজো রব। জোরকদমে চলছে যাবতীয় প্রস্তুতি। পর্যটকরা যেমন অধীর আগ্রহে চেয়ে রয়েছেন, তেমনি বনকর্মী, পরিবেশকর্মীরাও বেজায় খুশি। কিন্তু এই খুশির আবহের মাঝেই আপাতত অনিশ্চয়তায় হাতি সাফারি। পরিকল্পনা থাকলেও বক্সায় হাতি সাফারি শুরু করা হচ্ছে না। যে জায়গায় হাতি সাফারির কুনকিদের এনে রাখার কথা ছিল, বর্তমানে সেটা বাঘের ওপর নজরদারিতে আনা কুনকিদের দখলে গিয়েছে।
বক্সায় বাঘ ছাড়ার পর জঙ্গলে নজরদারি করার জন্য জলদাপাড়া থেকে যে তিন কুনকি হাতি বক্সায় আনা হয়েছে সেই সারথি, ভরত, বিঠলার বর্তমান অস্থানা রাজাভাতখাওয়ার পিলখানা। আপাতত হাতি সাফারির প্রকল্প থমকে গিয়েছে বলেই জানাচ্ছে বনকর্তারা। বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বক্সা টাইগার রিজার্ভের (Buxa Tiger Reserve) এক বনকর্তা বলেন, ‘বক্সায় বাঘ আনার পরিকল্পনা একটা বড় কাজ। আপাতত সবাই এই কাজেই ব্যস্ত। বিভিন্ন নিয়ম মেনে কাজ করতে হচ্ছে। এখন অন্য কাজ নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। বাঘ ছাড়ার পর দেখা হবে তারা ঠিকঠাক মানিয়ে নিতে পারছে কি না। সবকিছু ঠিক থাকলে হাতি সাফারি নিয়ে ফের কাজ শুরু হবে।’
প্রায় দেড় বছর আগে থেকে বক্সায় হাতি সাফারি চালুর প্রস্তুতি শুরু করেছিল বক্সা টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। মূল উদ্দেশ্য ছিল পর্যটকদের কাছে বক্সাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা। বর্তমানে আলিপুরদুয়ার জেলায় হাতি সাফারি রয়েছে তিন জায়গায়- জলদাপাড়া, মাদারিহাট ও কোদালবস্তিতে। তিনটি জায়গাই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অন্তর্গত। বক্সায় কার সাফারির সঙ্গে হাতি সাফারি শুরু হলে পর্যটকদের আরও বেশি ভিড় বক্সায় দেখা যেতে পারে বলেও আলোচনা চলছিল। সেইমতো রাজাভাতখাওয়ায় প্রকৃতিবিক্ষণকেন্দ্রের পাশে দুটো পিলখানা তৈরি হয়। হাতির পিঠে পর্যটকদের তোলার র্যাম্প তৈরি হয়। এমনকি মাদারিহাটে (Madarihat) হলং পিলখানায় দুটো হাতির প্রশিক্ষণও শুরু হয়। জঙ্গলের কোন দিক দিয়ে সাফারি হবে সেটার রুট ঠিক করে বন দপ্তরের কাছে চূড়ান্ত অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছিল।
তবে প্রায় আট মাস থেকে সেই ফাইল আটকে রয়েছে। এরপর সরকার পরিবর্তন এবং বক্সায় বাঘ ছাড়ার পরিকল্পনার মাঝে চাপা পড়ে গিয়েছে হাতি সাফারির পরিকল্পনা। সাফারির জন্য হাতি এনে যে পিলখানায় রাখা হবে বলে পরিকল্পনা করা হয় সেটা এখন ব্যবহার হচ্ছে বাঘের ওপর নজর রাখার কাজে আনা কুনকিদের। বন দপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন বাঘ ছাড়া হলে বক্সায় এমনিতেই পর্যটকদের ভিড় বাড়বে। তাই এই মুহূর্তে হাতি সাফারি শুরু না করলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না।

