Kalyan Banerjee | সংসদ চত্বরে কল্যাণের অভিনব প্রতিবাদ, দেখতে এসে প্রিয়াংকার কথায় উঠে এল দল ভাঙানোর অতীত!

Kalyan Banerjee | সংসদ চত্বরে কল্যাণের অভিনব প্রতিবাদ, দেখতে এসে প্রিয়াংকার কথায় উঠে এল দল ভাঙানোর অতীত!

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: মহিলা সাংসদদের প্রতি অসংসদীয় আচরণের অভিযোগে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্যই লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। সংসদে প্রবেশাধিকার না থাকলেও প্রতিদিন সংসদ চত্বরে ঘুরে ঘুরে অভিনব প্রতিবাদ জানাচ্ছেন তিনি। তাঁর গলায় ঝোলানো প্রমাণ মাপের পোস্টারে রয়েছে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দেওয়া ২০ জন দলবদলু সাংসদের ছবি।

রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মমতার (Mamata Banerjee) দল নানা ভাগে বিভক্ত। লোকসভায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ ২০ জন সাংসদ এনডিএ শিবিরভুক্ত এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন। মমতার পাশে থাকা কল্যাণ, মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায়েরা এঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ ও ‘গদ্দার’ আখ্যা দিয়ে নিয়মিত স্লোগান তুলছেন।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে ঢোকার সময় কল্যাণের এই প্রতিবাদ দেখে থমকে দাঁড়ান কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াংকা গান্ধি বঢ়রা (Priyanka Gandhi Vadra)। সঙ্গে ছিলেন পূর্ণিয়ার নির্দল সাংসদ পাপ্পু যাদবও। কল্যাণকে থামিয়ে প্রিয়াংকা জানতে চান, ‘‘কী করছেন?’’ উত্তরে কল্যাণ জানান, ‘‘এই ২০ জন গদ্দার তৃণমূলের টিকিটে জিতে সংসদে মোদিজির সঙ্গে বসে আছেন।’’

বিষয়টি হালকা করে হাসতে হাসতে প্রিয়াংকা ইতিহাস মনে করিয়ে বলেন, ‘‘এঁদের অনেকেই তো কংগ্রেসে ছিলেন। আপনারাই তো একসময় ভাঙিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন! এখন আবার অন্য দিকে চলে গিয়েছেন।’’ কল্যাণের যুক্তি ছিল, এঁরা কেউ কংগ্রেসের টিকিটে জেতেননি। তবে অতীতে দলবদলের বহু নজির রয়েছে। যেমন— ২০২৩ সালের সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে জিতে তৃণমূলে যোগ দেওয়া বায়রন বিশ্বাস পরবর্তীতে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন।

প্রিয়াংকা এ বিষয়ে আর কথা না বাড়ালেও পাপ্পু যাদব আসরে নামেন এবং বলেন, ‘‘কিন্তু এঁরা তো কংগ্রেসেই ছিলেন।’’ স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে গলা চড়িয়ে কল্যাণ পালটা জবাব দেন, ‘‘সে তো আমিও ছিলাম। যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ছিলাম। আপনারাই তো ১৯৯৭ সালে দিদিকে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন! দিদিকে না-তাড়িয়ে দিলে আপনাদের এই হাল হতো না।’’

তর্কে না গিয়ে প্রিয়াংকা এরপর তাঁর বাবা রাজীব গান্ধির সঙ্গে মমতার সুসম্পর্কের স্মৃতিচারণা করেন। কল্যাণও একবাক্যে তা স্বীকার করে বলেন, ‘‘রাজীবজি খুব ভালোবাসতেন, দিদিকে সম্মানও দিতেন।’’ ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ছেড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা দল গড়ার পর থেকেই বাংলার রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছিল।

সবশেষে প্রিয়াংকা হাসতে হাসতে সংসদ ভবনের দিকে রওনা দেওয়ার সময় পাপ্পু যাদব জানতে চান, ‘‘কংগ্রেস এখন সঙ্গে আছে তো?’’ কল্যাণ স্পষ্ট জানান, ‘‘আছে।’’ এরপরই ফের একবার এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া দলবদলু সাংসদদের বিরুদ্ধে স্লোগানে ফেটে পড়েন এই একলা প্রতিবাদী।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *