Gasoline Disaster India | জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই, প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয়ী বার্তার ব্যাখ্যায় কেন্দ্র

Gasoline Disaster India | জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা নেই, প্রধানমন্ত্রীর সাশ্রয়ী বার্তার ব্যাখ্যায় কেন্দ্র

ব্যবসা-বাণিজ্যের /BUSINESS
Spread the love


উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে তেলের তীব্র অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীর মনে যে আশঙ্কার মেঘ জমেছিল (Gasoline Disaster India), তা কাটাতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) হায়দরাবাদের এক সরকারি কর্মসূচিতে দেশবাসীকে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাস এবং ভোজ্য তেলের মতো আমদানি করা পণ্য ব্যবহারে অত্যন্ত সংযমী ও মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই দেশজুড়ে জল্পনা শুরু হয় যে, তবে কি অদূর ভবিষ্যতে ভারত কোনো বড়সড় জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতে চলেছে? এই উদ্বেগের নিরসনে সোমবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রকের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা একটি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, দেশে পেট্রল, ডিজেল বা এলপিজির (Crude Oil) কোনো ঘাটতি নেই এবং অযথা আতঙ্কিত হয়ে আগেভাগে জ্বালানি মজুত করার কোনো প্রয়োজন নেই।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ভারতের জ্বালানি মজুত বর্তমানে যথেষ্ট শক্তিশালী ও নিরাপদ স্তরে রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের কাছে বর্তমানে ৬০ দিনের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের স্টক রয়েছে এবং রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগনের মাধ্যমে এলপিজি পরিবহণের যে ‘রোলিং স্টক’ ব্যবস্থা, তাও ৪৫ দিনের জন্য মজুত আছে। যদিও ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির প্রায় ৯০ শতাংশই পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানি করে, তবুও বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সরবরাহ বজায় রাখতে সরকার দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিদেশ মন্ত্রক ও নৌপরিবহণ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উত্তেজনার মাঝেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় জাহাজগুলি নিরাপদেই চলাচল করছে এবং সেগুলির নিরাপত্তায় সরকার সজাগ দৃষ্টি রাখছে।

প্রধানমন্ত্রীর ‘সংযমী’ হওয়ার বার্তাকে কোনো ঘাটতির সংকেত হিসেবে না দেখে বরং একটি বৃহত্তর অর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখার পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার সুযোগে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় করতেই এই আবেদন জানানো হয়েছে। বর্তমানে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৭০৩ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় থাকলেও, অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দেশের অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতে চাইছে সরকার। বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন বা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মুদ্রাস্ফীতির চাপ তৈরি হয়েছে, তা থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সোনা কেনা বা তেলের ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি।

উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও ভারতে গত ৭০ দিনের বেশি সময় ধরে পেট্রল-ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি। সাধারণ মানুষের পকেটে টান যাতে না পড়ে, সেজন্য রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার বিশাল লোকসান সহ্য করছে। পৃথিবীর বহু দেশে যেখানে জ্বালানির দাম ৩০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে, সেখানে ভারত সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। এই সংকটময় মুহূর্তে জ্বালানি সাশ্রয়কে একটি ‘ন্যাশনাল মিশন’ (Nationwide Mission) বা জাতীয় কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করার জন্য দেশবাসীকে আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারের বার্তা স্পষ্ট— সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই, তবে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় অপচয় রোধ করাই এখন একমাত্র পথ।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *