অনির্বাণ চক্রবর্তী,কালিয়াগঞ্জ: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথেই বড়সড় রদবদল লক্ষ্য করা গেল কালিয়াগঞ্জ (Kaliaganj) পুরসভায়। শনিবার কালিয়াগঞ্জ পুরসভার সভাকক্ষে আয়োজিত এক বোর্ড মিটিংয়ের মাধ্যমে পুরপ্রধান বিশ্বজিৎ কুন্ডু (Bishwajit Kundu) এবং উপ-পুরপ্রধান জয়া বর্মন দেবশর্মা তাদের পদ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানালেন, যা তৃণমূল (TMC) কাউন্সিলরদের সম্মতিতে গৃহীত হয়েছে।
শনিবার পুরসভার দ্বিতলের সভা কক্ষে পুর এক্সিকিউটিভ অফিসার অর্ণব রায়ের উপস্থিতিতে এই পদত্যাগ পর্ব সম্পন্ন হয়। গোটা প্রক্রিয়ার সময় বিজেপি কাউন্সিলরদের নীরব দর্শক হিসেবে বসে থাকতে দেখা যায়। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিশ্বজিৎ ও জয়া। তবে তাঁদের স্পষ্ট দাবি, বিরোধী দল বিজেপি থেকে কোনো প্রকার চাপ বা প্ররোচনার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্বজিৎ কুন্ডু আরও বলেন, “আমরা কাউন্সিলর রয়েছি। ওয়ার্ডের নাগরিকদের অবশ্যই পরিষেবা দেব৷”
উল্লেখ্য, ১৭ জন কাউন্সিলর বিশিষ্ট কালিয়াগঞ্জ পুরসভায় তৃণমূলের ১০ জন কাউন্সিলর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক জটিলতা চরমে উঠেছিল। পুর সাফাইকর্মী ও পেনশনারদের সময়মতো বেতন দিতে না পারায় পুরপ্রধানকে বারবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে। ১৮ মে উপ-পুরপ্রধান জয়ার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন বিশ্বজিৎ কুন্ডু। সেই সূত্রেই শনিবারের এই বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছিল। পুরসভার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র ছয় মাস বাকি। এমন পরিস্থিতিতে জনমতের তোয়াক্কা না করে তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড কেন দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াল, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যে গেরুয়া ঝড়ের প্রভাব এবং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সম্মিলিত ফলই এই পদত্যাগ।
