উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক: রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগে এবার খোদ বারাসতের তৃণমূল সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের (Kakoli Ghosh Dastidar) পরিবারের চার সদস্যকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে শুনানিতে হাজির থাকার নোটিশ দিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Fee of India)। এই তালিকায় বাদ যাননি সাংসদের বৃদ্ধা মা-ও। জাতীয় কমিশনের এই পদক্ষেপকে সরাসরি ‘রাজনৈতিক হেনস্তা’ বলে দেগে দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদ।
যাঁদের তলব করা হয়েছে: কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর শুনানি পর্বে ডাকা হয়েছে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মা, তাঁর দুই পুত্র এবং তাঁর বোনকে। সাংসদের মা ও বোন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দীর্ঘদিনের ভোটার। অন্যদিকে, কাকলিদেবীর দুই ছেলে— বিশ্বনাথ ঘোষ দস্তিদার ও বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার পেশায় চিকিৎসক এবং তাঁরা কলকাতার ভোটার। একজন জনপ্রতিনিধির পরিবারের একাধিক সদস্যকে এভাবে নথিপত্র নিয়ে শুনানিতে তলব করায় রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
কেন এই তলব? নির্বাচন কমিশন সরকারিভাবে নির্দিষ্ট কারণ না জানালেও প্রশাসনিক সূত্রের অনুমান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে তাঁদের বর্তমান তথ্যের ‘ম্যাপিং’ বা সামঞ্জস্য নেই। অর্থাৎ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী যাঁরা নিজের বা আত্মীয়ের কোনও সঠিক বিবরণ বা লিঙ্কেজ দিতে পারেননি, তাঁদেরই মূলত এই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত ভাষায় যাঁদের তথ্যের ডিজিটাল ম্যাপিং সফল হয়নি, তাঁদের নথিপত্র সশরীরে যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।
সাংসদের তীব্র প্রতিবাদ: পরিবারের সদস্যদের নোটিশ পাওয়ার পর থেকেই তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন যা ইচ্ছা তাই করছে। একজন জনপ্রতিনিধির পরিবারের সদস্যদের যদি এভাবে অযথা ডাকা হয়, তবে সাধারণ ভোটারদের ওপর দিয়ে কী ঝড় যাচ্ছে তা সহজেই অনুমেয়। সাধারণ মানুষকে ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।” এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং কমিশনের পদক্ষেপের স্বরূপ তুলে ধরতে শনিবার দুপুরে তিনি একটি বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করবেন বলেও জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: শনিবার থেকেই রাজ্যজুড়ে এই এসআইআর শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মালদহের প্রতিমন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মেয়েকেও একইভাবে শুনানিতে ডাকা হয়েছে। একের পর এক হেভিওয়েট নেতৃত্বের পরিবারের সদস্যদের এই তালিকায় নাম ওঠায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে চড়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, নির্বাচনের আগে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক তৈরি করতেই এই ধরণের ‘স্ক্রুটিনি’ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কমিশনের দাবি, একটি স্বচ্ছ ও ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা তৈরি করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
