উত্তরবঙ্গ সংবাদ অনলাইন ডেস্ক: নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমের কাদুনা (Kaduna) রাজ্যের কৌরু (Kauru) স্থানীয় প্রশাসনিক এলাকার নরিডন (Naridon) গ্রামে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের নৃশংস হামলায় (Assault) অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার গভীর রাতে ঘটা এই হামলায় নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও বেশ কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তিও রয়েছেন। এছাড়া হামলায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সুত্রে জানা যায়, রবিবার গভীর রাতে একদল সশস্ত্র হামলাকারী অতর্কিত গ্রামে ঢুকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে। পরবর্তীতে তারা একের পর এক বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনেক বাসিন্দা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় পালানোর সুযোগ পাননি এবং পুড়ে মারা যান। এমনকি কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েও হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতদের এই তালিকার মধ্যে অন্তত আটজন শিশু রয়েছে।
হামলার পর পুরো গ্রামে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতদেহগুলি উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছেন এবং আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। প্রাণভয়ে অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হামলার খবর দ্রুত নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও তারা অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এর ফলে হামলাকারীরা নির্বিঘ্নে তাণ্ডব চালিয়ে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় সরকারের (Authorities) বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এখনও পর্যন্ত কোনও জঙ্গি বা সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র দস্যু গোষ্ঠী বা ‘ব্যান্ডিট’দের হামলা, অপহরণ, লুটপাট এবং গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়মিত রূপ নিয়েছে। অন্যদিকে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা (Africa) প্রভিন্স-এর মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোর তৎপরতা নাইজেরিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তা (Safety) পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
কাদুনা স্টেট পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছে।

